রান্না না পারা নির্যাতন নয়: বোম্বে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
রান্না না পারা নির্যাতন নয়: হাইকোর্টের রায়

দাম্পত্য জীবনে কোনও নারীর রান্না করতে না পারা বা ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে না পারাকে ‘নির্যাতন’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে ঐতিহাসিক এক রায় দিয়েছেন ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট। লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে আদালত জানিয়েছেন, বিয়ে হলো সমমর্যাদার অংশীদারিত্ব।

রায়ের বিবরণ

বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপান্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ গত ৮ মে একটি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, বিয়ে হলো সমমর্যাদার অংশীদারিত্ব। এটি কোনও সেবাদানের চুক্তি বা কর্মসংস্থানের চুক্তি নয় এবং স্ত্রীদের গৃহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, স্ত্রীর প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাজকর্ম করতে অস্বীকৃতি জানানো ‘মানসিক নির্যাতনের’ আওতার মধ্যে পড়ে না।

আদালত বলেন, গৃহস্থালি কাজ যেমন রান্না করা বা ঘর পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অক্ষমতাকে এককভাবে বা নিজের মতো করে নির্যাতন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী রায় বাতিল

এই রায়ের মাধ্যমে ২০১০ সালে বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টের দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি এবং স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাইকোর্ট। আদালত উল্লেখ করেন, ‘আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট’ ক্লাসের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করাকে ভিত্তি করে ফ্যামিলি কোর্ট স্ত্রীকে ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করেছিল। তবে এই কাজ থেকে তিনি নিয়মিত বা উল্লেখযোগ্য আয় করতেন এমন কোনও প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেন বিচারকরা।

রায়ে বলা হয়, স্বামী একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) এবং পেশাগতভাবে স্ত্রীর খরচ বহনে সক্ষম। ফলে স্ত্রীকে প্রতি মাসে ১০ হাজার রুপি ভরণপোষণ এবং আলাদা করে ১০ হাজার রুপি বাসস্থানের জন্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। স্বামীর অভিযোগ ছিল, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিরোধ শুরু হয় এবং কয়েক মাসের মধ্যে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। ২০০৪ সালে স্বামী নির্যাতনের অভিযোগে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, স্ত্রী গৃহস্থালি কাজ করতেন না, তার বাবা-মায়ের কথা মানতেন না, রান্না জানতেন না এবং রূঢ় আচরণ করতেন, যা তাকে মানসিক চাপে ফেলেছিল।

তবে স্ত্রী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে জোর করে বাসার সব কাজ করানো হতো, যার মধ্যে বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া, রান্না ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও ছিল। এমনকি তাকে বাসার বেঁচে যাওয়া খাবার খেতে বাধ্য করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি