ঈদের শেষ মুহূর্তে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কোরবানির পশুর হাট, ব্যবসায়ীদের লোকসানের শঙ্কা
ঈদের শেষ মুহূর্তে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পশুর হাট, ব্যবসায়ীদের শঙ্কা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শেষ দিনের বেচাকেনা চলছে। তবে শেষ মুহূর্তে বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি ও ক্রেতা কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক গরুর ব্যবসায়ী। কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীর ধোলাইখাল গরুর হাটে আসা ব্যবসায়ীরা এখন লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

হাটের চিত্র: ক্রেতা কম, গরু বেশি

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর ধোলাইখাল গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটজুড়ে হাজার হাজার গরু থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক ব্যবসায়ী গরুর পাশে ত্রিপল টানিয়ে বৃষ্টির হাত থেকে পশু বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার রাতভর জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের হতাশা

নাটোরের ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম তিন দিন আগে ২১টি গরু নিয়ে এসেছেন ধোলাইখাল হাটে। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি কোরবানির পশুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এবার তাঁর বিনিয়োগ প্রায় এক কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে গরু বিক্রি করলেও এবার পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা হতাশ তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাটের এক কোণে ত্রিপলের নিচে বসে সহকর্মীর সঙ্গে চিড়া-মুড়ি খেতে খেতে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভাই, ২১টা গরু নিয়ে এসেছিলাম। এখনো তিনটা বিক্রি বাকি আছে, বাকিগুলো বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গতকাল রাত থেকে গরুর দাম কমে গেছে। আবার বৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতাও কম। আমরা আশা করছি, বৃষ্টি কমলে বেচাকেনা বাড়বে।’

শহীদুল ইসলাম জানান, গরু পরিবহন, খাবার, শ্রমিক ও হাট খরচ মিলিয়ে ব্যয় অনেক বেড়েছে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লাভ কমে যাচ্ছে।

একই হাটে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রাজিব মাতবরও ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন। তাঁর বিনিয়োগ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি এই ব্যবসা করেছেন। তবে শেষ সময়ে এসে বাজার পরিস্থিতি তাঁকে হতাশ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজিব মাতবর বলেন, ‘বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাস্টমার কমে গেছে। ২০টা গরুর মধ্যে ১১টা বিক্রি হয়েছে। গতকাল যে গরুর দাম ছিল, আজকে সেই গরু ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসান হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো ঘুমাইনি। গরু নিয়ে হাটেই থাকতে হচ্ছে। কয়েকজন লোক সঙ্গে করে এনেছি। খাওয়া-ঘুম সব হাটেই হচ্ছে। এখন শুধু চাই, গরুগুলো ভালো দামে বিক্রি হোক।’

খামারিদের শঙ্কা

ঢাকার নবাবগঞ্জের শোল্লা এলাকার খামারি শরীফ হোসেনও একই ধরনের শঙ্কার কথা জানান। অন্য ব্যবসার পাশাপাশি তিনি নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। সেখানে প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সারা বছর ধরে গরু লালন-পালন করেছেন তিনি।

এবার তিনি ধোলাইখাল হাটে সাতটি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে মাত্র দুটি বিক্রি হয়েছে।

শরীফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম এবার সব গরু দ্রুত বিক্রি হয়ে যাবে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাস্টমার খুব কম। মানুষ হাটে আসতে পারছে না। তবে আবহাওয়া ভালো হলে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।’

ক্রেতাদের অবস্থান

হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই শেষ মুহূর্তে গরু কিনতে চান। আবার টানা বৃষ্টির কারণে অনেকে পরিবার নিয়ে হাটে আসতে পারছেন না। ফলে বেচাকেনার গতি কমে গেছে।

খরচ বেড়েছে, দাম কমেছে

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির পশুর খাবার, পরিবহন খরচ ও শ্রমিক ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তার ওপর শেষ সময়ে এসে গরুর দাম কমে যাওয়ায় তাঁরা চাপে পড়েছেন।

ধোলাইখাল হাটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদের আগের রাত পর্যন্ত তাঁরা আশাবাদী থাকলেও আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অনেককে কম দামে গরু বিক্রি করতে হতে পারে। এতে বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।