গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের টাইলসশিল্প এক নাটকীয় পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এখন শুধু সাধারণ ৩০x৩০ বা ৬০x৬০ সাইজের টাইলস নয়, দেশজুড়ে ১০০x১০০ সেন্টিমিটার টাইলসের চাহিদাও তৈরি হয়েছে। বাজার-চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে শেল্টেক্, আকিজ সিরামিকস, ডিবিএলসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এই সাইজের টাইলস বাজারজাত করছে। এসব বড় আকারের টাইলস ভবন নির্মাণের নতুন ভাষা হয়ে উঠছে।
বড় টাইলস ব্যবহারের সুবিধা
পরিমিত নান্দনিকতা
১০০x১০০ আকারের টাইলস ব্যবহার করলে ঘর বা অন্দরের জায়গা অনেক বেশি বড়, খোলামেলা ও আরামদায়ক মনে হয়। আকারে বড় হওয়ায় টাইলসের সিম বা গ্রাউট লাইনের (দুটি টাইলসের মাঝের জোড়া) সংখ্যা কমে যায়, ফলে মেঝে অনেক বেশি ঝকঝকে দেখায় ও সিল্কস্মুথ ফিনিশ দেয়। বড় টাইলস মেঝে বা দেয়ালে ব্যবহার করলে অন্দরে একটা লাক্সারি চেহারা আসে।
অন্দরের বেশি জায়গা
বড় টাইলসের কারণে রুমে আলো ও জায়গা বেশি অনুভূত হয়। ছোট টাইলসের তুলনায় মেঝে বা দেয়ালে কম বিভাজন লাইন থাকায় চোখে লেয়ারড ক্লাটার কম লাগে, যা একই সঙ্গে মিনিমালিস্ট ও লাক্সারি লুক তৈরি করে। বিশেষ করে লিভিংরুম, রান্নাঘর বা হলরুমের মতো জায়গায় বড় আকারের টাইলস বেশি উপযুক্ত।
রক্ষণাবেক্ষণ সহজ
বড় টাইলসে গ্রাউট লাইনের সংখ্যা কম থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সহজ হয়। যেসব টাইলসে জোড়া বেশি থাকে, সেসব জায়গায় ময়লা বেশি আটকে যেতে পারে, কিন্তু বড় টাইলসে এমন সমস্যা কম। বড় টাইলস বসানোও সহজ। পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও সময় বাঁচায়।
নকশা ঠিক থাকে
বড় টাইলসে ডিজাইন এবং প্যাটার্ন কম বিভক্ত হয়। ফলে গ্রানাইট, মার্বেল বা কংক্রিট লুকের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। অনেক সময় টাইলসের ওপর বিশেষ কোনো নকশা করলে সেটা ছোট টাইলসে একাধিক ভাগে বিভক্ত থাকে, আর সেটা সেট করার পর নকশায় বাধার সৃষ্টি করে। তবে বড় টাইলসে সাধারণত একটাতেই নকশা এঁটে যেতে পারে, দেখতেও ভালো লাগে।
কোথায় কোথায় ব্যবহার করা যায়?
কোথায় কেমন টাইলস ব্যবহার করবেন সেটা বুঝে নেওয়া জরুরি।
আবাসিক ভবন
লিভিংরুম, ডাইনিং, মাস্টার বেডরুম, রান্নাঘরের মতো জায়গায় বড় টাইলস ব্যবহার করা যায়। যা ঘরকে আরও খোলামেলা, আরামদায়ক লুক দেয়। দেয়াল ও মেঝেতে বড় টাইলস ব্যবহার করলে ময়লা কম আটকায়।
কমার্শিয়াল ও পাবলিক স্পেস
অফিস লবি, শোরুম, রেস্তোরাঁ বা হোটেলের প্রবেশদ্বার—এ ধরনের জায়গায় বড় টাইলস ব্যবহার করলে জায়গার স্থাপত্য ও ব্র্যান্ড ইমেজ বেড়ে যায়। যেহেতু এসব জায়গায় বেশি মানুষের আনাগোনা থাকে, তাই বড় টাইলস ব্যবহার করা ভালো। পরিষ্কার রাখাও সহজ হয়।
কেন বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে?
আগে ১০০x১০০ সাইজের টাইলস সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। যার দাম ছিল অনেক বেশি আর নকশার বৈচিত্র্যও ছিল সীমিত। এখন শেল্টেক্, আকিজ সিরামিকসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেশেই আন্তর্জাতিক মানের বড় টাইলস তৈরি করছে। যে কারণে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হচ্ছে, আর ক্রেতারাও আগ্রহ পাচ্ছেন।
কেবল সৌন্দর্যের জন্যই নয়; বরং স্থাপত্যের ভাষা বদলাতেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে এসব বড় টাইলসকে গ্রাহকেরা গ্রহণ করছেন। আধুনিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে সময়ের ছাপ রাখতেও অনেকে বড় টাইলস বেছে নিচ্ছেন। আরও পড়ুন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা নিজেদের ঘরে যে ৬টি ভুল কখনোই করেন না ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
আন্তর্জাতিক বাজার
বিশ্বব্যাপী বড় আকারের টাইলসের ব্যবহার মূলত আধুনিক ও মিনিমাল ডিজাইনের জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন মেলায় (যেমন ইতালির চেজারি ও যুক্তরাষ্ট্রের কভারিংস) গত কয়েক বছরে বড় টাইলসকে প্রধান ট্রেন্ড হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এসব সাইজ সাধারণত একদিকে ৬০০ মিলিমিটারের বেশি হয়ে থাকে। বিশ্বের শীর্ষ নির্মাণ প্রকল্পগুলোতেও বড় টাইলসের ব্যবহার চোখে পড়ে। বহু আধুনিক ভিলা, হোটেল লবি, শোরুম বা রেস্তোরাঁ বড় টাইলস দিয়ে করা।
দামের ধারণা
বাজারে টাইলসের দাম সাধারণত বর্গফুটের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে সাধারণ টাইলসের দাম প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ২০০ টাকা। ডিজাইন, মান ও ব্র্যান্ড অনুযায়ী যা ওঠানামা করে। বড় আকারের (১০০x১০০) টাইলস সাধারণত প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিতে পড়ে। সে কারণে এসব টাইলসের দামও কিছুটা বেশি। ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বর্গফুটে এমন টাইলস কেনা যাবে। স্থানীয় উৎপাদন চালু থাকায় আমদানি করা টাইলসের তুলনায় এই দাম কিছুটা কমই বলা চলে। আরও পড়ুন ঘর গোছাতে কাজে লাগাতে পারেন এই পদ্ধতি ৩১ মার্চ ২০২৬। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন। গৃহসজ্জা থেকে আরও পড়ুন কেনাকাটা ভবন টাইলস বাড়ি ঘর বসত।



