বিসিএসের 'অসুখ' থেকে বের হওয়ার আহ্বান: বয়সসীমা কমানো ও পরীক্ষা কঠিন করার পরামর্শ
বিসিএসের 'অসুখ' থেকে বের হওয়ার আহ্বান, বয়সসীমা কমানোর পরামর্শ

বিসিএসের 'অসুখ' থেকে বের হওয়ার আহ্বান: ডা. জাহেদ উর রহমানের কঠোর পরামর্শ

তরুণ প্রজন্মকে বিসিএস নামক 'অসুখ' থেকে বের হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি একই সঙ্গে বিসিএস পরীক্ষার বয়সসীমা কমানো এবং পরীক্ষা আরও কঠিন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সোমবারের অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের আয়োজনে 'গ্রিডলক থেকে শাসনব্যবস্থার নবায়ন: বিপিএসসি সংস্কার প্রতিবেদন'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান তার বক্তব্যে তরুণদের মধ্যে বিসিএসের অতিরিক্ত আকর্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, 'অনেক তরুণ ভালো চাকরি ছেড়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য বছরের পর বছর পরীক্ষা দিচ্ছেন। আবার অনেকে বারবার পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের টেবিলে দেখা যায় বিসিএসের বই। তরুণদের জীবনের বড় একটা সময় খেয়ে ফেলছে বিসিএস। এই 'অসুখ' থেকে বের হতে হবে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংস্কারের জন্য কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বিসিএসে ইনসেনটিভ কমাতে হবে। বয়সসীমাও কমানোর পাশাপাশি পরীক্ষা আরও কঠিন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'শুধু ছোটখাটো পরিবর্তন নয়, প্রয়োজনে কঠোর ও 'সার্জারির মতো' সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব রোগে ওষুধ কাজ করে না, মাঝেমধ্যে অস্ত্রোপচারও লাগে। অস্ত্রোপচার বেদনাদায়ক হলেও কার্যকর। তাই মাঝেমধ্যে কিছু কঠিন সময়ের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে। এতে অনেকের হয়তো অপ্রিয় হতে হবে।'

তার মতে, তরুণদের মধ্যে বিসিএসের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • বিসিএস পরীক্ষার বয়সসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো।
  • পরীক্ষার কাঠিন্যতা বাড়ানো যাতে শুধু মেধাবীরাই সফল হতে পারে।
  • বিসিএস ক্যাডার হওয়ার প্রণোদনা কমিয়ে অন্যান্য পেশার প্রতি তরুণদের আকৃষ্ট করা।
  • শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে বিসিএসের বইয়ের পরিবর্তে বিস্তৃত জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করা।

এই আহ্বান তরুণ প্রজন্মের ক্যারিয়ার গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য সরকারি চাকরির সংস্কার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে।