অন্তিক মাহমুদের সাক্ষাৎকারে উঠে এলো অ্যানিমেশন শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
তরুণ ও নবীন পেশাজীবীদের ক্যারিয়ার গঠনে বইয়ের শিক্ষার চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে প্রথম আলো ডটকম ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ পডকাস্ট শো 'লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন-২' তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় দশম পর্বে অতিথি হিসেবে অংশ নেন অন্তিক অ্যানিমেটেড স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা অন্তিক মাহমুদ। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল 'শূন্য থেকে স্বপ্নপূরণ: অ্যানিমেশন, কার্টুন, সৃজনশীল সাহস এবং একটি স্টুডিও নির্মাণ।'
অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রি শক্তিশালী করতে আর্থিক উন্নয়ন ও ওয়ার্কশপের গুরুত্ব
অন্তিক মাহমুদ পডকাস্টে বলেন, 'আমাদের অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রিকে শক্তিশালী করতে প্রথমে আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে, যাতে শিল্পীরা শুধু বেঁচে থাকার চিন্তায় না আটকে থাকে। দ্বিতীয়ত, প্রচুর ওয়ার্কশপ প্রয়োজন। আমরা হয়তো বড় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারব না, কিন্তু ছোট ছোট ওয়ার্কশপের মাধ্যমে দক্ষ অ্যানিমেটর তৈরি করতে পারি।' পর্বটি গত শনিবার প্রথম আলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হয়।
জাপানি সংস্কৃতি থেকে পাওয়া সৃজনশীলতা ও গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে কার্টুন
সঞ্চালকের প্রশ্নে অন্তিক মাহমুদ জানান, তিনি আনুমানিক ১০ বছর বয়সে জাপান থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন, যা তাঁর শৈশবের মূল্যবোধ ও সৃজনশীল দিককে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, 'আমি সব সময় নিজেকে একজন গল্পকার হিসেবে ভাবতাম। গল্প বলার জন্য গান, কমিকস, বই লিখেছি, এবং কার্টুন আমার কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম মনে হয়েছে।' তিনি ব্যাখ্যা করেন যে কার্টুন মাধ্যমটি সহজ, কারণ এতে ভিএফএক্সের পরিবর্তে শুধু আঁকাআঁকি করলেই হয়।
টেকনোলজির গুরুত্ব ও স্টুডিও ব্যবসায়িক সাফল্যের পথ
টেকনোলজি সম্পর্কে অন্তিক মাহমুদ বলেন, 'টেকনোলজি ছাড়া এখন টিকে থাকা অসম্ভব। হাতে আঁকা কাজের দাম বেশি হতে পারে, কিন্তু কাস্টমার চাহিদা পূরণ ও গণ উৎপাদনে ডিজিটাল মাধ্যম অপরিহার্য।' তাঁর স্টুডিওর সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ছোট কাজ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি সৃজনশীলতা ও ব্যবসার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশের স্টোরিটেলিং মার্কেট ও আর্টের সামাজিক প্রভাব
বাংলাদেশের গল্প বলার বাজার সম্পর্কে অন্তিক মাহমুদ বলেন, 'বাংলাদেশে চমৎকার গল্প আছে, কিন্তু মার্কেট স্টোরি ড্রিভেন নয়; সবকিছু বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা গল্প চান, যা দর্শকদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়।' আর্টের সামাজিক প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, 'যেকোনো আর্ট ফর্ম দিয়েই সমাজে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব, যেমন ঢাকার জুলাই আন্দোলনে গান ও আর্টের ভূমিকা। অ্যানিমেশন মানুষের গল্প বলার শক্তিশালী ভাষা।'
ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ে আর্টের ভূমিকা
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে অন্তিক মাহমুদ বলেন, 'আমি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে চাই যেখানে আর্থিক চাপ ছাড়াই কাজের স্বাধীনতা থাকবে। ইন্ডাস্ট্রিতে আমি শত শত দক্ষ অ্যানিমেটরের সঙ্গে বিশ্বমানের কাজ করতে চাই।' বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ে ইতিহাস ও আর্টের ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আর্ট ফর্ম হলো মিউজিক, এবং পুরোনো গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন স্টোরি তৈরি করা উচিত। ঐতিহ্যকে ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা দরকার।'



