বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের অনশন: ১০ বছরের সম্পর্কের টানাপোড়েন
বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের অনশন

বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের অনশন: ১০ বছরের সম্পর্কের টানাপোড়েন

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে এক যুবক প্রেমিকার বাড়ির সামনে অনশন শুরু করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে, যেখানে বিশ্বজিৎ বাড়ৈ (২৮) নামের এই যুবক মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে অনশনে বসেছেন।

দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও কোর্ট ম্যারেজের দাবি

বিশ্বজিৎ বাড়ৈ দাবি করেন যে, তার প্রেমিকা অনুশীলা বাড়ৈর (২৩) সঙ্গে তার ১০ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জানান, তারা চার বছর আগে কোর্ট ম্যারেজ করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এখন সেই বিয়ের স্বীকৃতি চাইছেন। বিশ্বজিৎ বলেন, "অনুশীলা বাড়ৈর সঙ্গে আমার ১০ বছরের সম্পর্ক। তার নার্সিং পড়ালেখার জন্য তার পেছনে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করি। ঢাকায় একসঙ্গে দীর্ঘ সময় বাসা ভাড়া করে থেকেছি।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনুশীলার পরিবার ও গ্রামের কম-বেশি সবাই তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে জানে। সম্প্রতি লেখাপড়া শেষ করে অনুশীলা একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সিংয়ের চাকরি নিয়েছেন, এরপর থেকে তার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছেন। বিশ্বজিৎ বলেন, "১২ দিন হয় আমার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। তাই আমি নিরুপায় হয়ে তার বাড়িতে আমাদের বিয়ের সম্পর্কের স্বীকৃতি পেতে অনশনে বসেছি। সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এখানেই অনশন চালিয়ে যাব।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেমিকার পাল্টা বক্তব্য ও ডিভোর্সের দাবি

অন্যদিকে, অনুশীলা বাড়ৈ সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন যে, বিশ্বজিতের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, কিন্তু জোর করে কোর্ট ম্যারেজে সই করানো হয়েছে। অনুশীলা বলেন, "তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। জোড় করে কোর্ট ম্যারেজে সই করাইছে। আমি এক সপ্তাহ আগে তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছি। তার সঙ্গে আমি সংসার করব না।"

এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের মধ্যস্থতা ও পুলিশের অবস্থান

স্থানীয় মেম্বার ও গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জেরে বিশ্বজিৎ ও অনুশীলা দুজনের সম্মতিতে গোপনে বিয়ে করেছেন বলে তারা বিশ্বাস করেন। তাদের বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে বিশ্বজিৎ দুই দিন ধরে অনশনে বসেছেন। স্থানীয়রা উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন।

এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, "তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ও আইনি জটিলতা নিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষ সতর্ক নজর রাখছেন। বিশ্বজিতের অনশন চলমান থাকায় বিষয়টির দ্রুত সমাধান কামনা করছেন অনেকেই।