পটুয়াখালীতে বিয়েবাড়িতে নতুন জামাইকে ডিজেল উপহার, তেল সংকটের প্রতিবাদ
উপহার হিসেবে সাধারণত সোনা-দানা, আসবাবপত্র বা শৌখিন সামগ্রীর চল থাকলেও পটুয়াখালীর এক বিয়েবাড়িতে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। নতুন জামাইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হলো বোতলভর্তি ‘ডিজেল’। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুমকি উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমের বিয়েতে এমন ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় ঘটনার বিস্তারিত
দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষিবিদ ফাহিমের সঙ্গে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের শারমিন স্বর্ণার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। পটুয়াখালী জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহারের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘তৈলের তীব্র সংকট মোকাবিলায় নতুন জামাই-বউকে তৈল মর্দন’। মুহূর্তেই সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়, যা নিয়ে এখন জেলাজুড়ে বইছে আলোচনার ঝড়।
তেল সংকটের প্রতিবাদে এই উদ্যোগ
বিয়েতে কেন এমন অদ্ভুত উপহার—এমন প্রশ্নে আয়োজকরা জানান, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমানে ডিজেলের তীব্র সংকট চলছে। পটুয়াখালী ও দুমকি উপজেলার ৭টি ফিলিং স্টেশন ঘুরেও মোটরসাইকেলের জন্য তেল পাননি নেতাকর্মীরা। শেষে খুচরা দোকান থেকে চড়া দামে ডিজেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। জনদুর্ভোগের এই বাস্তব চিত্র তুলে ধরতেই তারা বিয়ের মঞ্চকে বেছে নিয়েছেন।
জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. মহসিন ইসলাম বলেন, “আমরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমান সময়ের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরতে চেয়েছি। আজ দেশের সর্বত্র তেলের সংকট সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। প্রতীকীভাবে এই ডিজেল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি।”
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে তেল সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সৃজনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা এই প্রতিবাদী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, যদিও কিছু মানুষ এটিকে অপ্রথাগত বলে মন্তব্য করেছেন।



