আজ সকাল সকাল রওনা দিতে হবে, কারণ নাপা ভ্যালি অনেক দূরে। সকালে মজার নাশতা করে বের হলাম। শনিবার ছুটির দিনে রাস্তা ফাঁকা ছিল। বন্ধু মেটা ও আলফাবেটের ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এল। ক্যাম্পাসটি স্প্যানিশ স্থাপত্যে অত্যন্ত সুন্দর ও সাজানো। মূল সড়কের দুপাশে গাছের সারি ও বিখ্যাত ভবন পার হয়ে মূল ভবনের সামনে নেমে হাঁটাহাঁটি ও ছবি তুললাম।
নাপা ভ্যালির পথে জ্যাম ও গোল্ডেন গেট সেতু
স্নিগ্ধ ক্যাম্পাস ছেড়ে নাপা ভ্যালিতে যাওয়ার পথে সময় ছিল। সান ফ্রান্সিসকোর লম্বার্ড স্ট্রিট ও গোল্ডেন গেট সেতু দেখার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু 'নো কিংস ডে' উপলক্ষে ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের কারণে শহরে দুই ঘণ্টার জ্যামে আটকে গেলাম। গোল্ডেন গেট সেতু দিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো না, তবে নাপা ভ্যালিতে পৌঁছাতে সক্ষম হলাম।
নাপা ভ্যালির পুরোনো মার্কেটে দুপুরের খাবার
নাপা ভ্যালির ছোট শহরে অনেক পর্যটক ছিল, কিন্তু আমরা দেরিতে পৌঁছায় বেশির ভাগ পর্যটক চলে গিয়েছিলেন। দুপুরের খাবারের জন্য পুরোনো মার্কেটে গেলাম। সেখানে ইতালিয়ান পিজ্জারিয়া থেকে দুটি ভিন্ন স্বাদের পিজ্জা নিলাম, সঙ্গে বন্ধু স্থানীয় দ্রাক্ষারস নিল। পিজ্জার দাম ছিল ৮০ ডলার, যা বন্ধুকে দিয়ে দিলাম। বাংলাদেশি পিজ্জা আরও ভালো বলে মনে হলো।
আঙুরবাগান ও সান হোজে শহর
খাওয়ার পর আঙুরবাগান ঘুরে না কিনেই চলে এলাম। সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিয়ে সান হোজে শহর দেখতে বের হলাম। শহরের নাইট লাইফ ইউরোপীয় ধরনের, রাস্তায় দ্রাক্ষারস, স্টেক ও পিজ্জার আয়োজন। প্রযুক্তিবিদদের টাকায় শহর চকচক করছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে যাত্রা
পরদিন লস অ্যাঞ্জেলেস যাওয়ার কথা ছিল। প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ে দিয়ে অর্ধেক পথ গাড়িতে, বাকি অর্ধেক এমট্রেক রেলের ক্যালিফোর্নিয়া সার্ফলাইনার ট্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা। সকালে কাতার এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিলের বার্তা পেয়ে চায়না ইস্টার্নের টিকিট কাটলাম সাংহাই ও কুনমিং হয়ে।
প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ে ও মন্টেরি
বিকেল চারটায় ট্রেন ধরার জন্য অর্ধেক পথ পিসিএইচ ও বাকি হাইওয়ে ১০১ দিয়ে সান লুইস অবিস্পো যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। মন্টেরি ও প্যাসিফিক গ্রোভ শেষে ১৭ মাইল ড্রাইভে ১২ ডলার দিয়ে ঢুকলাম। এখানে পাথুরে উপকূল, গলফ কোর্স ও সাদা বালুকাবেলা দেখলাম। সাঁতারের পোশাক না থাকায় পানিতে নামা হয়নি।
একাকী সাইপ্রেস ও কারমেল বে
১৭ মাইল ড্রাইভে শত বছরের পুরোনো সাইপ্রেস গাছের জঙ্গল পেরিয়ে বিখ্যাত একাকী সাইপ্রেসের সামনে ছবি তুললাম। এই গাছ ২৫০ বছর ধরে পাহাড়ি ঢালে টিকে আছে। কারমেল বে-তে পার্কিং না পেয়ে উপকূল ছেড়ে হাইওয়ে ১০১ ধরে ক্যাম্ব্রিয়া হয়ে আবার পিসিএইচ ধরলাম। পথে আঙুরের বাগান ও পাহাড়ি দৃশ্য দেখে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুললাম।
মরো রক ও সান লুইস অবিস্পো
সান লুইস অবিস্পোর কাছাকাছি মরো উপসাগরে মরো রক নামক বিশাল পাথরখণ্ড দেখলাম। সান লুইস অবিস্পো রেলস্টেশনে পৌঁছে বন্ধুকে বিদায় দিয়ে প্যাসিফিক সার্ফলাইনার ট্রেনে উঠলাম। ট্রেনটি উপকূল ঘেঁষে চলছিল, দোতলা থেকে অসাধারণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল।
লস অ্যাঞ্জেলেসে আগমন
রাত ১০টায় লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিয়ন স্টেশনে পৌঁছে উবারে র্যাঞ্চো কুকুমাংগায় আসতে রাত ১১টা বাজল। পকেটে হাত দিয়ে দেখি প্রায়োরিটি কার্ড হারিয়ে গেছে, সম্ভবত ভেন্ডিং মেশিনে কফি কেনার সময় পড়ে গেছে। মন খারাপ নিয়ে রাতের খাবারে দেশি খাবারের এলাহি আয়োজন দেখে গোগ্রাসে খেলাম। সহযাত্রীর চাচাতো ভাই স্পোর্টস কারে শহর ঘুরিয়ে এফ১ স্টাইলে গাড়ি চালান।
লস অ্যাঞ্জেলেসে দুই দিন
পরদিন সকালে নাশতা করে পুরোনো সহকর্মীর সাথে দেখা করলাম, যিনি ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য এখানে এসেছেন। তিনি শিক্ষানবিশ গাড়িচালক, ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে আমাদের ভিক্টোরিয়া গার্ডেনস শপিং ডিস্ট্রিক্টে নিয়ে গেলেন। সেখানে হালকা শপিং করে আবাসে ফিরে খাবার খেয়ে সহকর্মীকে বিদায় দিলাম।
গ্রিফিত অবজারভেটরি ও হলিউড
বিশাল গাড়িতে করে গ্রিফিত অবজারভেটরিতে গেলাম, যেখানে লা লা ল্যান্ডের শুটিং হয়েছিল। পাহাড় থেকে হলিউড লেখা দেখা যায়। সেখান থেকে নেমে হলিউডে গিয়ে ফুটপাতের স্টারগুলোর মধ্যে মাইকেল জ্যাকসনের স্টারের সামনে ছবি তুললাম। তারপর ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিটি ওয়াকে সন্ধ্যা কাটিয়ে মুলহল্যান্ড ড্রাইভ দিয়ে আবাসে ফিরলাম।
মেক্সিকান রেস্তোরাঁ ও থাউজ্যান্ড ওক
রাতের খাবারে উচ্চমার্গের মেক্সিকান রেস্তোরাঁয় গেলাম। খাবারের মধ্যে খবর এল যে সহযাত্রীকে তার মামা থাউজ্যান্ড ওকে নিয়ে যাবেন। তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে টেসলায় করে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলাম। পথে প্যাসাডিনা শহর দেখলাম, যার সিটি হলের ক্লক টাওয়ারে স্প্যানিশ ছোঁয়া আছে।
মামার বাসায় কাচ্চি বিরিয়ানি ও ঘুম
মামার বাসায় পৌঁছে তার হাতে তৈরি কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়ে ঘুমাতে গেলাম। পরদিন সারা দিন এলোমেলো ঘুরে শপিং করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সে গল্প পরের পর্বে।



