শজনে নাকি লাজনা? দেখতে একই হলেও পার্থক্য জানুন সহজে
শজনে ও লাজনার পার্থক্য: চেনার সহজ উপায়

শজনে নাকি লাজনা? দেখতে একই হলেও পার্থক্য জানুন সহজে

অনেকেই শজনে ও লাজনাকে একই উদ্ভিদ মনে করে বিভ্রান্ত হন। নাম শুনতে কাছাকাছি, দেখতেও প্রায় একই রকম—তবে বাস্তবে এরা সম্পূর্ণ আলাদা দুই প্রজাতি। লাজনা মূলত শজনের একটি উন্নত ও আধুনিক জাত হিসেবে পরিচিত, কিন্তু গঠন, স্বাদ, ফুল-ফল এবং চাষপদ্ধতিতে এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

নামকরণ ও পরিচয়

উদ্ভিদবিদ ও গবেষক জিনিয়া নাসরিনের মতে, অঞ্চলভেদে শজনেকে শজিনা বা মরিঙ্গা নামে ডাকা হয়। অন্যদিকে লাজনাকে বিভিন্ন অঞ্চলে রাইখঞ্জন বা বহুপল্লভা নামেও চেনা যায়। দেখতে মিল থাকলেও তাদের বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে তারা স্বতন্ত্র।

গাছের গঠন ও উচ্চতার পার্থক্য

শজনে গাছ: দেশি শজনেগাছ সাধারণত লম্বা ও সোজা হয়ে থাকে। এটি ১০ থেকে ১২ মিটার বা তারও বেশি উচ্চতা পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং এর ডালপালা মূলত ওপরের দিকে বিস্তৃত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লাজনা গাছ: লাজনা গাছ তুলনামূলকভাবে খাটো ও ঝোপালো প্রকৃতির। সাধারণত এর উচ্চতা ৪ থেকে ৬ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যা পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহকে সহজতর করে তোলে।

কাণ্ড ও ডালপালার বৈশিষ্ট্য

শজনের কাণ্ড শক্ত ও মসৃণ হয় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি শক্ত কাষ্ঠল গাছে পরিণত হয়। এই গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতলেই নতুন গাছ জন্মাতে পারে, তাই ডাল থেকেই এর চাষ বেশি প্রচলিত।

লাজনার কাণ্ড তুলনামূলকভাবে নরম ও মোটা হয়ে থাকে। এটি দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও শজনের মতো অতটা শক্ত নয়। লাজনাও ডাল থেকে জন্মাতে পারে, তবে সাধারণত বীজ থেকেই এর চাষ করা হয়ে থাকে।

ফুল ও ফলনের সময়ের বৈসাদৃশ্য

শজনে একটি মৌসুমি গাছ হিসেবে পরিচিত। বছরে একবার, সাধারণত বসন্তের শেষে এটি ফুল ও ফল ধরে। ফুল ফোটার সময় গাছের পাতা প্রায় ঝরে যায় এবং পাতাহীন অবস্থাতেই ডাঁটা ধরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লাজনা বারোমাসি প্রকৃতির উদ্ভিদ। বছরে দুইবার বা অনেক ক্ষেত্রে সারা বছরই এতে ফুল ও ফল পাওয়া যায়। এর ফুল শজনের তুলনায় ছোট, রং গাঢ় ঘিয়ের মতো এবং পাপড়িতে লালচে দাগ থাকে—যা শজনের ফুলে সাধারণত দেখা যায় না।

ফলনের সময়ের দিক থেকেও বড় একটি পার্থক্য লক্ষণীয়। লাজনা গাছে রোপণের মাত্র ৬-৮ মাসের মধ্যেই ফল আসে, অন্যদিকে শজনে গাছে ফল পেতে প্রায় ২ বছর অপেক্ষা করতে হয়।

ডাঁটার আকার ও স্বাদের তুলনা

  • শজনের ডাঁটা: লম্বা, চিকন ও সোজা হয়—দৈর্ঘ্যে এক ফুটেরও বেশি হতে পারে। এটি আঁশযুক্ত এবং স্বাদে বেশ সুস্বাদু হিসেবে বিবেচিত।
  • লাজনার ডাঁটা: তুলনামূলকভাবে ছোট, মোটা ও কিছুটা বাঁকা হয়ে থাকে। রং ধূসর-সবুজ এবং ভেতরটা নরম হলেও বাইরের অংশ শক্ত হয়। স্বাদের দিক থেকে অনেকের কাছে এটি শজনের চেয়ে কম সুস্বাদু, কখনো হালকা তেতোও লাগতে পারে।

ঔষধি গুণ ও উপকারিতা

উভয় উদ্ভিদই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং ঔষধি গুণে ভরপুর। বসন্তকালীন নানা রোগ প্রতিরোধে শজনে ও লাজনা উভয়ই সমানভাবে উপকারী বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, দেখতে কাছাকাছি হলেও শজনে ও লাজনার পার্থক্য বোঝা খুব কঠিন নয়। গাছের গঠন, ফুলের ধরন ও ডাঁটার বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলেই সহজেই এদের চেনা সম্ভব।