তওবার দরজা কি চিরদিন খোলা থাকবে? ইসলামের দৃষ্টিতে জেনে নিন
তওবার দরজা কি চিরদিন খোলা থাকবে? জেনে নিন

আল্লাহ তাআলার অসীম রহমতের অন্যতম নিদর্শন হলো— তিনি বান্দার জন্য তওবার দরজা খুলে রেখেছেন। মানুষ যত বড় গুনাহই করুক না কেন, আন্তরিক অনুশোচনা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর কাছে ফিরে এলে তিনি ক্ষমা করে দেন। কিন্তু এই সুযোগ চিরস্থায়ী নয়। এমন দুটি সময় আসবে, যখন তওবার দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। তখন অনুতাপ, অশ্রু কিংবা ক্ষমা প্রার্থনা কোনো উপকারে আসবে না। তাই সময় থাকতে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই একজন মুমিনের প্রজ্ঞার পরিচয়।

তওবার দরজা বন্ধ হওয়ার প্রথম সময়— মৃত্যুর মুহূর্ত

যখন মৃত্যুর ফেরেশতা উপস্থিত হবে এবং মানুষ মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করবে, তখন আর তওবা গ্রহণ করা হবে না। কারণ তখন ইমান ও অনুতাপ আর গায়েবের প্রতি বিশ্বাসের অংশ থাকে না; বরং তা হয়ে যায় বাস্তবতা দেখার পরের স্বীকারোক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘যারা সারাজীবন পাপ করতে থাকে, অতঃপর তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে বলে, ‘এখন আমি তওবা করলাম’—তাদের তওবা গ্রহণ করা হবে না।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১৮)

এ কারণেই ইসলাম বারবার আমাদের সতর্ক করেছে— মৃত্যুর আগেই তওবা করতে হবে। কারণ কেউ জানে না, তার জীবনের শেষ মুহূর্ত কখন এসে যাবে।

তওবার দরজা বন্ধ হওয়ার দ্বিতীয় সময়— সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া

কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত হলো সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। সেই সময় থেকে তওবার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আর নতুন করে ইমান আনা বা গুনাহ থেকে ফিরে আসা কোনো উপকারে আসবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا

‘যেদিন তোমার প্রতিপালকের কিছু মহান নিদর্শন এসে যাবে, সেদিন এমন ব্যক্তির ইমান কোনো উপকারে আসবে না, যে আগে ইমান আনেনি বা ইমানের মাধ্যমে কোনো সৎকাজ অর্জন করেনি।’ (সুরা আল-আনআম: আয়াত ১৫৮)

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ، فَذَلِكَ حِينَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ

‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়। যখন তা উদিত হবে এবং মানুষ তা দেখবে, তখন সবাই ইমান আনবে। কিন্তু তখন এমন ইমান কোনো উপকারে আসবে না, যে আগে ইমান আনেনি।’ (বুখারি ৪৬৩৫, মুসলিম ১৫৭)

আজই তওবার উত্তম সময়

আজ আমরা জীবিত আছি, নিঃশ্বাস নিচ্ছি, ইবাদত করার সুযোগ পাচ্ছি— এটাই আল্লাহর বিরাট অনুগ্রহ। তাই গুনাহকে হালকাভাবে না নিয়ে, আন্তরিক অনুতাপের সঙ্গে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা উচিত। কারণ আল্লাহ আন্তরিক তওবাকারীদের ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২২২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا

‘আল্লাহ রাতে তার রহমতের হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনের পাপী তওবা করতে পারে; আর দিনে তার রহমতের হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতের পাপী তওবা করতে পারে— এভাবে চলতে থাকবে, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়।’ (মুসলিম ২৭৫৯)

তওবা: সীমিত সুযোগের নেয়ামত

তওবা এমন একটি নেয়ামত, যা মানুষকে গুনাহ থেকে মুক্ত করে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। কিন্তু এই সুযোগ সীমাহীন নয়। মৃত্যুর আগমুহূর্ত কিংবা কিয়ামতের বড় আলামত প্রকাশের পর আর তওবার সুযোগ থাকবে না। তাই আজই নিজের ভুলগুলো স্বীকার করে, আন্তরিক হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং নতুনভাবে ইমান ও তাকওয়ার পথে চলার অঙ্গীকার করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে খাঁটি তওবা (তাওবাতুন নাসুহা) করার তৌফিক দান করুন এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইমানের ওপর অটল রাখুন। আমিন।