নাটোরে আদালত চত্বরে নিজ চেম্বারে ঢুকে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক জিপি মো. আসাদুল ইসলামকে রড দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দিয়েছে এক যুবক। আহত আইনজীবীকে উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নাটোর জজকোর্টের আইনজীবী আসাদুল ইসলাম নিজ চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীর পরিচয় ও গ্রেপ্তার
হামলাকারী কাবিল হোসেন (৩৩) সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। তাকে আটক করেছে পুলিশ। মো. আসাদুল ইসলাম (৬৬) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জলোর সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বাদী হয়ে একটি দেওয়ানি মামলা করায় অভিযুক্ত যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
জেলা আইনজীবী সমিতি ও সদর থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আসাদুল ইসলাম নিজ চেম্বারে বসেছিলেন। এক যুবক রড দিয়ে আইনজীবী আসাদুল ইসলামের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার দুই হাত ভেঙে যায় ও মাথা ফুলে ওঠে। আকস্মিক এ ঘটনায় আশপাশে থাকা শত শত বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আইনজীবীর সহকারীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই যুবককে আটক করে রাখা হয়। পুলিশ এসে ওই যুবককে থানায় নিয়ে যায়।
পারিবারিক বিরোধের প্রেক্ষাপট
আহত আইনজীবী আসাদুল ইসলামের ভাই নাজমুল ইসলাম জানান, জমি নিয়েই মূলত রেজাউল করিম ও তার ছেলে কাবিলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি গত এক মাস আগে কলম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল রেজাউল করিমকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়াসাপেক্ষে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। বিষয়টি মীমাংসিত।
আইনজীবী সমিতির প্রতিক্রিয়া
নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফুল হক মুক্তা বলেন, 'আমরা জনগণকে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকি; কিন্তু আমরাই যদি এই আদালত চত্বরে হামলার শিকার হই তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কোথায়? যা আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। প্রশাসনকে আরও সতর্ক হতে হবে।' এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
পুলিশের বক্তব্য
নাটোর থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



