শিশু ধর্ষণচেষ্টায় মাদ্রাসাশিক্ষককে জুতারমালা পরিয়ে ঘোরালো জনতা
শিশু ধর্ষণচেষ্টায় মাদ্রাসাশিক্ষককে জুতারমালা পরিয়ে ঘোরালো জনতা

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে জুতারমালা পরিয়ে এলাকায় ঘুরিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মাওলানা আনসার উদ্দিন। তিনি উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আহমদিয়া বাজার এলাকার মোজাফফর নুরানি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ওই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর থেকেই এলাকায় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সেদিন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম ছিল। দুপুর ১টার দিকে মাদ্রাসা ছুটি হয়ে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরা যার যার বাড়ি চলে যায়। তবে ওই ৭ বছরের শিশুটিকে ফুসলিয়ে মাদ্রাসার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যান সহকারী শিক্ষক আনসার উদ্দিন। সেখানে তিনি শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

শিশুর চিৎকারে শিক্ষক ছেড়ে দেন

শিশুটির চিৎকারে বা কোনোভাবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে তার মাকে বিস্তারিত জানায়। ঘটনাটি জানার পর শিশুর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি অবহিত করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দলবেঁধে মাদ্রাসায় চড়াও হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আনসার উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনতার গণধোলাই ও জুতোপেটা

একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে ধরে গণধোলাই দেয় এবং তার গলায় জুতারমালা পরিয়ে আহমদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘুরিয়ে জুতোপেটা করে। মোজাফফর নুরানি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শামছুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা মাদ্রাসা কমিটি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসি। এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক আনসার উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিশুর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে।"

পুলিশের পদক্ষেপ

খবর পেয়ে হাতিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।"