শিরক: যে পাপের বিনিময়ে পৃথিবীর সব সম্পদও কাজে আসবে না
শিরক: যে পাপের বিনিময়ে পৃথিবীর সব সম্পদও কাজে আসবে না

ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক হলো সবচেয়ে গুরুতর পাপ, যা আল্লাহ কখনো ক্ষমা করেন না। কুরআন ও হাদিসে বারবার শিরক থেকে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে পৃথিবীর সবকিছু থাকলে তা কি শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য দিয়ে দেবে? সে বলবে, হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তো তোমার কাছে এর চেয়েও সহজ বিষয় চেয়েছিলাম যখন তুমি আদমের পৃষ্ঠদেশে ছিলে— যে তুমি আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না। কিন্তু তুমি তা মানোনি, বরং শিরক করেছ। (বুখারি ৩৩৩৪, মুসলিম ২৮০৫)

শিরকের পরিণতি কুরআনের আলোকে

আল্লাহ তাআলা সুরা আন-নিসায় (আয়াত ৪৮) বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। তবে এর নিচের (অন্যান্য) পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।' সুরা আল-মায়িদাহ (আয়াত ৭২)-এ আরও বলা হয়েছে, 'নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।'

শিরক সব নেক আমল ধ্বংস করে

সুরা আয-যুমার (আয়াত ৬৫)-এ আল্লাহ তার নবীকেও সতর্ক করে বলেন, 'যদি আপনি শিরক করেন, তবে অবশ্যই আপনার সব আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।' এটি মূলত উম্মতের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা, কারণ তাওহিদ ছাড়া কোনো ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তাওহিদের গুরুত্ব ও দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার নবুয়তের সূচনা করেছিলেন তাওহিদের দাওয়াত দিয়ে। তাই মুমিনের উচিত শুধু আল্লাহর কাছেই দোয়া করা, শুধু তার ওপর ভরসা করা, সব ধরনের বড় ও ছোট শিরক থেকে বেঁচে থাকা এবং কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত করা। কুরআনে দোয়া শেখানো হয়েছে: 'রব্বানা লা তুযেগ ক্বুলুবানা বাঅ'দা ইজ হাদাইতানা ওয়াহাব লানা মিল্লাদুংকা রাহমাহ। ইন্নাকা আংতাল ওয়াহহাব।' (সুরা আল-ইমরান: ৮) অর্থ: 'হে আমাদের রব! আপনি আমাদের হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনিই মহাদাতা।'

শিরকের ভয়াবহতা এতটাই যে কিয়ামতের দিন পৃথিবীর সমস্ত ধন-সম্পদ দিয়েও কোনো মুশরিক শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে না। অথচ আল্লাহ আমাদের কাছে সহজ বিষয় চেয়েছেন— শুধু তার ইবাদত করা এবং তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। আসুন, আমরা আমাদের আকিদাহ বিশুদ্ধ করি, তাওহিদকে জীবনের ভিত্তি বানাই এবং প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের শিরক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তাআলা আমাদের বিশুদ্ধ তাওহিদের ওপর অবিচল রাখুন এবং ইমানের সঙ্গে মৃত্যু দান করুন। আমিন।