সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ‘হলি কোরআন মিউজিয়ামে’ ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো পবিত্র কোরআনের একটি বিরল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ইসলামি সভ্যতার শৈল্পিক উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে অনন্য ধারণা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাণ্ডুলিপির বৈশিষ্ট্য
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিটি হিজরি ১১শ শতাব্দীর, যা সূক্ষ্ম সোনালি অলঙ্করণ, উজ্জ্বল রঙের নকশা এবং নিপুণ ক্যালিগ্রাফির জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাণ্ডুলিপিটিতে সে সময়কার ইসলামি শিল্পকলা, কারুশিল্প এবং নান্দনিকতার উচ্চমান ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীটি ইসলামি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্বব্যাপী দর্শনার্থীদের কাছে তা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাণ্ডুলিপিটির প্রতিটি পাতা সূক্ষ্ম পুষ্পশোভিত নকশা এবং কারুকার্যময় অলঙ্করণে সাজানো হয়েছে। এটির শুরুতে সূরা আল-ফাতিহা সংবলিত অংশটিতে জ্যামিতিক নিখুঁততা এবং বিস্তারিত সোনালি কারুকাজের এক চমৎকার সমন্বয় রয়েছে।
শিল্পীদের দক্ষতা
জাদুঘরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাণ্ডুলিপিটি মূলত ইসলামি ক্যালিগ্রাফার এবং অলঙ্করণ শিল্পীদের দক্ষতার পরিচায়ক। এর মাধ্যমে ওই সময়ের শিল্পীরা নিপুণ হস্তাক্ষর ও আলঙ্কারিক সৌন্দর্যের মিশেলে কোরআনের লিখনশৈলীকে এক অনন্য শৈল্পিক ঐতিহ্যে রূপান্তর করেছেন। মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এই জাদুঘরটিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে কয়েক শতাব্দী ধরে কোরআনের লিখন এবং অলঙ্করণ শৈলীর বিবর্তনকে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ইসলামি পাণ্ডুলিপি, শিল্পের বিকাশ এবং পবিত্র কোরআনের প্রতি মুসলমানদের চিরন্তন শ্রদ্ধাবোধ অনুধাবনের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে কোরআন যে শুধু একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থই নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক অনুপ্রেরণারও এক অন্যতম উৎস, সেই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
শতবর্ষী এই নিদর্শনটি ইসলামি ঐতিহ্যের সমৃদ্ধির এক জীবন্ত দলিল হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি বর্তমানে জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সারাবিশ্বের দর্শনার্থীদের কাছে কারুশিল্পের এক অনন্য উত্তরাধিকার হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।



