পবিত্র কোরআনে এমন এক বাবার চিত্র ফুটে উঠেছে, যাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ সমকালীন সব বাবার জন্য অনুসরণীয়। তিনি হলেন নবী ইয়াকুব (আ.)। তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো ইসলামী শিক্ষায় আদর্শ পিতার মডেল হিসেবে বিবেচিত।
হালাল উপার্জন ও দায়িত্বশীলতা
নবী ইয়াকুব (আ.) মরুভূমিতে মেষ চরাতেন। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। দুর্ভিক্ষের কঠিন সময়েও তিনি সন্তানদের মিসরের রাজদরবারে পাঠিয়েছেন, যাতে তারা পরিবারের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে। এটি দেখায় যে তিনি শুধু আধ্যাত্মিক নন, বস্তুগত দায়িত্বেও সচেতন ছিলেন।
অবিরাম কল্যাণ কামনা
সন্তানদের ভালো-মন্দের বিষয়ে তিনি সদা জাগ্রত ছিলেন। ছেলেরা তাঁর সঙ্গে দিনের পর দিন অন্যায় আচরণ করার পরও তিনি কখনো তাদের কল্যাণ কামনা করা ও উপদেশ দেওয়া বন্ধ করেননি। এটি পিতার নিঃশর্ত ভালোবাসার উদাহরণ।
গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা
ইয়াকুব (আ.) যেমন দয়ালু পিতা ছিলেন, তেমনই ছিলেন চরম বিচক্ষণ। ছেলেরা যখন ইউসুফের জামায় কৃত্রিম রক্ত মেখে এসে বলল যে তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে, তিনি সেই ফাঁদে পা দেননি। তিনি তাদের চোখের ভাষা ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে পেরেছিলেন এবং ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।
সহমর্মিতা ও সংলাপের ভাষা
তিনি সন্তানদের সঙ্গে সব সময় বন্ধুর মতো কথা বলতেন। সন্তানদের কথা শোনা এবং তাদের মতামতের মূল্যায়ন করা—এটি আধুনিক মনস্তত্ত্বেও সন্তান গঠনে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তিনি প্রায়ই তাদের 'ইয়া বুদাইয়া' (ওহে আমার প্রিয় সন্তানেরা) বলে সম্বোধন করতেন।
ক্ষমাশীল হৃদয়
ছেলেরা এত বড় অপরাধ করার পরও, যখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বলল, 'হে আমাদের পিতা, আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আমরা আসলেই অপরাধী ছিলাম,' তিনি তাদের ফিরিয়ে দেননি। বরং পরম মমতায় বলেছিলেন, 'আমি শিগগিরই আমার পালনকর্তার কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব।' (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৯৭-৯৮)
ইফতেখারুল হক হাসনাইন, একজন আলেম ও লেখক, তাঁর লেখায় এই পাঁচটি গুণ তুলে ধরেছেন যা আজকের পিতাদের জন্য পথনির্দেশক।



