ফুটবল খেলা কি হারাম? ডা. জাকির নায়েকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ফুটবল খেলা কি হারাম? ডা. জাকির নায়েকের বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েক তার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ফুটবল খেলা ও পেশাদার ফুটবলের ইসলামি বিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি সাধারণ স্তরে ফুটবল খেলাকে জায়েজ বললেও আন্তর্জাতিক স্তরে এটিকে মাকরূহ বলে অভিহিত করেছেন।

সাধারণভাবে ফুটবল খেলার বিধান

ডা. জাকির নায়েক বলেন, 'সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যে খেলাই খেলুন না কেন, তা যদি আপনাকে ফিট ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা বিরোধী কোনো কাজের দিকে না নিয়ে যায়, তাহলে তা অনুমোদিত। ফুটবল যদি আপনাকে ফিট ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজের কারণ না হয়, তবে ফুটবল খেলা হারাম নয়।'

পেশা হিসেবে ফুটবল: আলেমদের মতভেদ

পেশা হিসেবে ফুটবল খেলার বৈধতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তার ফতোয়া গ্রন্থের ৮ম খণ্ডের ১১৬-১১৯ পৃষ্ঠায় পেশাদার ফুটবলকে হারাম বলেছেন। তিনি পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন: সতর উন্মুক্ত হওয়া, জামায়াতে নামাজ ছুটে যাওয়া, দলাদলি সৃষ্টি, আঘাতের ঝুঁকি এবং অমুসলিম দেশে সফরে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডা. জাকির নায়েকের বিশ্লেষণ

ডা. জাকির নায়েক শায়খ ইব্রাহিমের সাথে আংশিক একমত। তিনি বলেন, 'তিনি পেশা হিসেবে ফুটবলের যে স্তরের কথা বলছেন তা অনেক উঁচু পর্যায়ের। বিশ্বমানের ফুটবল খেলোয়াড় হওয়া, বিশ্বকাপ বা ইউরো কাপের মতো শীর্ষ স্তরে খেলার ক্ষেত্রে তার কথা অনেকখানি সঠিক, কিন্তু ঢালাওভাবে ফুটবল খেলাকে পেশা হিসেবে হারাম বলা— এই বিষয়ে আমি তার সাথে দ্বিমত পোষণ করি।'

তিনি সাধারণ স্তরের পেশাদার ফুটবলকে জায়েজ মনে করেন। বোম্বেতে তার অনেক বন্ধু ছিলেন যারা কাস্টমস বা রেলওয়েতে চাকরি করে কোম্পানির হয়ে ফুটবল খেলতেন। তিনি বলেন, 'পেশাদার ফুটবলার হওয়ার মানেই এটা নয় যে আপনাকে বিশ্বকাপ, অলিম্পিক বা ইউরো কাপে খেলতে হবে। বিশ্বের ফুটবল খেলোয়াড়দের মধ্যে হয়তো ০.১ শতাংশের চেয়েও কম খেলোয়াড় সেই স্তরে পৌঁছায়।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সতর ও নামাজের বিষয়

সতরের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আপনি যদি একজন মুসলিম হন তবে আপনি খুব সহজেই বলতে পারেন যে আমি হাঁটু ঢাকা লম্বা শর্টস পরিধান করব।' নামাজ ছুটে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, 'আমি এমন অনেক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি মুসলিমকে চিনি যারা খেলাধুলার কারণে কখনো নামাজ মিস করেননি। একটি ফুটবল ম্যাচ সাধারণত খুব অল্প সময়ের জন্য হয়— সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।'

আন্তর্জাতিক স্তরের চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক স্তরে পেশাদার ফুটবলের ঝুঁকি সম্পর্কে ডা. জাকির নায়েক বলেন, 'আপনি যখন আন্তর্জাতিক স্তরে যাবেন, তখন সেখানে প্রচুর টাকা জড়িয়ে পড়ে। শায়খ ইব্রাহিম যা বলেছেন আমি তার সাথে একমত যে সেখানে জুয়া ও বাজি ধরা হয়। কিন্তু আপনি নিজে যদি বাজিতে জড়িত না থাকেন তবে আপনি গুনাহগার হবেন না।'

তিনি স্পনসরশিপের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। 'জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আপনাকে এমন সব কোম্পানির ব্র্যান্ড স্পনসর করে, যাদের ব্র্যান্ডিং করা হারাম। আপনি আপনার টি-শার্টে কোনো মদের কোম্পানির লোগো লাগিয়ে সেটির প্রচার করতে পারেন না, এটি হারাম।'

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ঘটনা

ডা. জাকির নায়েক ইউরো কাপ ২০২০-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একটি সাক্ষাৎকারে কোকাকোলার দুটি ক্যান সরিয়ে পানি পান করতে বলেন। এর ফলে কোকাকোলা কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫৬.১ ডলার থেকে কমে ৫৫.২২ ডলারে নেমে আসে এবং কোম্পানিটির মোট ৪ বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়।

অন্যদিকে, মুসলিম ফুটবলার পল পগবা তার ইন্টারভিউয়ের সময় বিয়ারের বোতল সরিয়ে দেন, যার ফলে ইউরো কাপ কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে মুসলিম খেলোয়াড়দের সামনে অ্যালকোহল না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

সারমর্ম

ডা. জাকির নায়েকের আলোচনার সারমর্ম হলো— ফুটবল নিজে কোনো হারাম খেলা নয়; বরং এটি একটি উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত খেলাধুলা। তবে পেশাদার ফুটবলের বৈধতা নির্ভর করে একজন খেলোয়াড় কতটুকু ইসলামের বিধান মেনে চলতে পারছেন তার ওপর। সাধারণ পর্যায়ে শরিয়তের সীমারেখা রক্ষা করে ফুটবল খেলা ও এর মাধ্যমে জীবিকা অর্জনকে তিনি বৈধ মনে করেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ও উচ্চপর্যায়ের ফুটবলে খ্যাতি, অর্থ, স্পন্সরশিপ এবং বিভিন্ন অনৈসলামিক প্রভাবের কারণে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই তিনি উচ্চস্তরের পেশাদার ফুটবলকে মাকরূহ বলেছেন, তবে হারাম নন।