হজের সফরে ১৬ মাসনুন দোয়া: আত্মশুদ্ধির পথে সঙ্গী
হজের সফরে ১৬ মাসনুন দোয়া: আত্মশুদ্ধির পথে সঙ্গী

হজ শুধু একটি সফর নয়—এটি আত্মার ফিরে আসার এক মহিমান্বিত যাত্রা। এই পথে প্রতিটি পদক্ষেপে লুকিয়ে থাকে আল্লাহর স্মরণ, অশ্রুসিক্ত দোয়া আর ক্ষমা প্রার্থনার এক অপূর্ব সুযোগ। পৃথিবীর ব্যস্ততা পেছনে ফেলে যখন একজন মুমিন 'লাব্বাইক' ধ্বনিতে সাড়া দেন, তখন তার হৃদয় নতুন করে জেগে ওঠে রবের ভালোবাসায়। তাই এই পবিত্র সফরকে অর্থবহ করতে দোয়া ও জিকিরই হতে পারে সবচেয়ে বড় সঙ্গী।

সফরের শুরুতে মুসলমান ভাইকে বিদায় জানাতে পড়ুন

أَسْتَوْدِعُكُمُ اللهَ الَّذِي لا تَضِيعُ وَدَائِعُه
উচ্চারণ: 'আস্তাওদিউকুমুল্লাহাল্লাজি লা তাদীউ ওয়া দা-য়িউহু।'
অর্থ: 'আমি তোমাদের এমন এক আল্লাহর হেফাজতে দিচ্ছি, যার হেফাজতে রাখা কিছুই নষ্ট হয় না বা হারায় না।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হজের সফর শুরু করতে পড়ুন

اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ، اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هٰذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَىٰ، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَىٰ، اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هٰذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ وَالْوَلَدِ
উচ্চারণ: 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, সুব্‌হানাল্লাজি সাখ্‌খারা লানাহা-জা, ওয়া মা কুন্না লাহু মুক্‌রিনিনা ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুংকালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাজাল- বিররা ওয়াত্-তাকওয়া, ওয়া মিনাল-আমালি মা তার‌দা। আল্লাহুম্মা হাওয়িন আলাইনা সাফারানা হা-জা ওয়াত্‌য়ি আন্না বু'দাহু। আল্লাহুম্মা আনতাস্-সাহিবু ফিস্-সাফারি, ওয়াল-খালিফাতু ফিল আহলি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আ'উজু বিকা মিন্ ওয়া'সা-ইস্‌সাফারি, ওয়া কা-আবাতিল মান‌যারি, ওয়া সু-ইল মুন্‌কালাবি ফিল মা-লি, ওয়াল আহলি ওয়াল ওয়ালাদ।'
অর্থ: 'আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। পবিত্র মহান সত্তা তিনি, যিনি আমাদের জন্য এ বাহনকে অনুগত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা একে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে আমাদের এই সফরে সৎকর্ম ও পরহেজগারিতা এবং এমন কাজের তাওফিক চাই, যা আপনি পছন্দ করেন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এই সফরকে সহজ করে দিন এবং এর দূরত্বকে আমাদের নিকটবর্তী করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি সফরের সাথী এবং পরিবারে তাদের তত্ত্বাবধায়ক। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই সফরের কষ্ট, দৃশ্যের বিষণ্নতা এবং ধ্বংসাত্মক ফিরে আসা থেকে—সে হোক সম্পদে, পরিবারে বা সন্তানদের ক্ষেত্রে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইহরাম বাঁধার পর পড়ুন, তালবিয়া

لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ: 'লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা, লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।'
অর্থ: 'আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোন শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয় সকল প্রশংসা, অনুগ্রহ ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।'

হারামে প্রবেশের সময় পড়ুন

أَعُوذُ بِاللّٰهِ الْعَظِيمِ، وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، بِسْمِ اللّٰهِ، وَالْـحَمْدُ لِلّٰهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللّٰهِ، اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ: 'আউজুবিল্লা-হিল আজিম, ওয়াবি-ওয়াজহিহিল কারিম, ওয়া সুলত্বানিহিল কাদিম, মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম। বিসমিল্লাহি, ওয়াল হামদু লিল্লাহি, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু 'আলা রাসুলিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগফির্‌ লি জুনুবি, ওয়াফ‌তাহ্‌ লি আবওয়াবা রাহমাতিকা।'
অর্থ: 'আমি মহান আল্লাহর, তার মর্যাদাপূর্ণ চেহারা এবং চিরন্তন কর্তৃত্বের মাধ্যমে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহর নামে (আমি প্রবেশ করছি), সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসুলের ওপর শান্তি ও সালাম বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ মাফ করে দিন এবং আপনার রহমতের দরজাসমূহ আমার জন্য খুলে দিন।'

কাবা শরিফ দেখে পড়ুন

اللّٰهُمَّ زِدْ هٰذَا الْبَيْتَ تَشْرِيفًا وَتَعْظِيمًا وَتَكْرِيمًا وَمَهَابَةً، وَزِدْ مَنْ شَرَّفَهُ وَكَرَّمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ أَوِ اعْتَمَرَهُ تَشْرِيفًا وَتَكْرِيمًا وَتَعْظِيمًا وَبِرًّا، اللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ، فَحَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ
উচ্চারণ: 'আল্লাহুম্মা যিদ্ হা-জাল বাইতা তাশরিফান ওয়া তা'জিমান ওয়া তাকরিমান ওয়া মাহাবাতান, ওয়া যিদ্ মান শাররাফাহু ওয়া কাররামাহু মিম্মান হাজ্জাহু আওয়ি'তামারাহু তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া তা'জিমান ওয়া বিররান। আল্লাহুম্মা আন্তাস্ সালাম, ওয়া মিন্‌কাস্ সালাম, ফা-হাইয়িনা রাব্বানা বিস্ সালাম।'
অর্থ: 'হে আল্লাহ! আপনি এই ঘরকে অধিক মর্যাদা, মহত্ত্ব, সম্মান এবং ভয়-ভীতির স্থল বানান। যারা এটির হজ বা ওমরাহ করেছে, তাদের মধ্য থেকে যারা এই ঘরকে সম্মান করেছে, তাদেরও অধিক মর্যাদা, সম্মান, মহত্ত্ব এবং নেকি দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি তো শান্তি, আপনার কাছ থেকেই শান্তি, সুতরাং আমাদেরকে আপনি শান্তিতে বাঁচিয়ে রাখুন।'

তাওয়াফের সময় রুকন ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝামাঝি জায়গায় পড়ুন

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: 'রব্বানা আ-তিনা ফিদ্-দুন্ইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল-আ-খিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা 'আজা-বান্ নার।'
অর্থ: 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।' (সুরা বাকারা: আয়াত ২০১)

সাফা-মারওয়া সাঈর সময় পড়ুন

সাফা-মারওয়াতে সাঈর সময় সাফাতে উঠতে গিয়ে প্রথমে আল্লাহ তাআলার বাণী দিয়ে শুরু করবেন: إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণ: 'ইন্নাস্-সফা-ওয়াল্-মারওয়াতা মিন্ শা'আ-ইরিল্লাহি; ফা-মান্ হাজ্জাল্-বাইতা আওই'তামারা ফালা জুনাহা 'আলাইহি আই ইয়াত্তাওওয়াফা বিহিমা, ওয়া মান্ তাতাও্ওয়া' খাইরান ফা-ইন্নাল্লাহা শাকিরুন্ আলিম।'
অর্থ: 'নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কেউ যদি হজ বা ওমরাহ করে, তাহলে তার জন্য এ দুটির মাঝে সাঈ করায় কোনো দোষ নেই। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকর্ম করে, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ কৃতজ্ঞ ও সর্বজ্ঞ।' (সুরা বাকারা: আয়াত ১৫৮)

এরপর বলুন: أبدأُ بما بدأَ اللهُ بهِ
উচ্চারণ: 'আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহি'
অর্থ: 'আমি শুরু করছি, যেভাবে আল্লাহ শুরু করেছেন।'

সাঈ'র সময় কাবা নজরে পড়লে কাবামুখী হয়ে দুই হাত উঠিয়ে পড়ুন: اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ.
উচ্চারণ: 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ও হুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন কাদির। লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, আনঝাযা ওয়া'দাহু, ওয়া নাসারা 'আবাদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।'
অর্থ: 'আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। তারই জন্য রাজত্ব, তারই জন্য সকল প্রশংসা আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই দলবদ্ধ শত্রুদের পরাজিত করেছেন।'

মারওয়া পাহাড়ে ওঠার সময়ও একই নিয়মে দোয়া পড়ুন।

আরাফায় অবস্থানের সময় পড়ুন

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া যা আমি পাঠ করেছি ও আমার পূর্ববর্তী নবীরা পাঠ করেছেন, দোয়াটি হলো: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْء قدير
উচ্চারণ: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।'
অর্থ: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তার কোনো শরিক নেই। তারই রাজত্ব, তার জন্যই সকল প্রশংসা। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।' (তিরমিজি ৩৫৮৫)

হজের সফরে অবসরে পড়ুন

এছাড়া আরও কিছু মাসনুন দোয়া নিচে তুলে ধরা হলো, হজের সফরে যে কোনো সময় এ দোয়াগুলো পড়তে পারেন:

  1. رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
    উচ্চারণ: 'রাব্বানা লা তু'আখিযনা ইন্ নাসিনা আও আখতা'না। রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল 'আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু 'আলাল্লাজিনা মিন্ কাবলিনা। রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্‌মিল্‌না মা লা ত্বাকাতা লানা বিহি। ও'আফু 'আন্না ওয়াগ‌ফির লানা ওয়ারহাম‌না। আন্তা মাওলানা ফানছুরনা 'আলাল্-কাওমিল্-কাফিরিন।'
    অর্থ: 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদেরকে আপনি পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন ভার প্রয়োগ করবেন না যেমন ভার আপনি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর আপনি এমন কিছু চাপিয়ে দেবেন না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আর আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন, আমাদের গুনাহ মাফ করে দিন, আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি তো আমাদের অভিভাবক। অতএব, আপনি কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।' (সুরা বাকারা: আয়াত ২৮৬)
  2. رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
    উচ্চারণ: 'রব্বানা আফরিগ 'আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফ‌ফানা মুসলিমিন।'
    অর্থ: 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের মুসলমান হিসেবে মৃত্যু দান করুন।' (সুরা আ'রাফ: আয়াত ১২৬)
  3. رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
    উচ্চারণ: 'রব্বানাগফির লানা জুনুবানা ওয়া ইস‌রাফানা ফি আমরিনা, ওয়া ‌সাব্বিত আকদামানা ওয়ান‌ছুরনা আলাল্-কাওমিল্-কাফিরিন।'
    অর্থ: 'হে আমাদের রব! আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের কাজে আমাদের সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন, আমাদের পদসমূহ দৃঢ় করুন এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।' (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৪৭)
  4. رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
    উচ্চারণ: 'রব্বানা জালামনা আংফুসানা, ওয়া ইল্লাম্‌ তাগফির্ লানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল্-খাসিরিন।'
    অর্থ: 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।' (সুরা আ'রাফ: আয়াত ২৩)
  5. رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
    উচ্চারণ: 'রব্বিজ'আলনি মুকিমাস্‌ সালাতি ওয়া মিন্ জুররিইয়াতি, রব্বানা ওয়া তাক্বাব্বাল্ দু'আ। রব্বানাগফির্ লি ওয়া লি-ওয়ালিদাইয়া ওয়া লিল্-মু'মিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল্ হিসাব।'
    অর্থ: 'হে আমার রব! আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আমার দোয়া কবুল করুন। হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সমস্ত মু'মিনদের ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে।' (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৪০-৪১)
  6. رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
    উচ্চারণ: 'রব্বানা লা তাঝ'আল্‌না ফিতনাতাল্ লিল্লাজিনা কাফারু, ওয়াগফির লানা। রব্বানা ইন্নাকা আন্‌তাল 'আঝিঝুল হাকিম।'
    অর্থ: 'হে আমাদের রব! কাফিরদের জন্য আমাদেরকে পরীক্ষার কারণ কর না এবং আমাদেরকে ক্ষমা কর। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।' (সুরা মুমতাহিনা: আয়াত ৫)

হজের সফর থেকে ফেরার সময় পড়ুন

اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ، تَائِبُونَ، سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا، حَامِدُونَ صَدَقَ اللّٰهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
উচ্চারণ: 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আ-য়িবুনা, তা-য়িবুনা সাজিদুনা লিরাব্বিনা হামিদুনা। সাদাকাল্লাহু ওয়া'দাহু ওয়া নাসারা আ'বদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।'
অর্থ: 'আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। তারই জন্য রাজত্ব, তারই জন্য সকল প্রশংসা আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আমাদের পালনকর্তার কাছে আবার আমরা ফিরে আসব, তারই প্রতি আমরা অভিমুখী হই এবং তার প্রতি সিজদা আদায় করি। তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই দলবদ্ধ শত্রুদের পরাজিত করেছেন।'

হজের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান— প্রতিটি দোয়া কবুলের সম্ভাবনায় ভরা। তাই এই সফরে যত বেশি সম্ভব আল্লাহর স্মরণে নিজেকে নিমগ্ন রাখা, আন্তরিকভাবে দোয়া করা এবং তাঁর কাছে ফিরে আসাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই মাসনুন দোয়াগুলো শুধু মুখের উচ্চারণ নয়, বরং হৃদয়ের আরজি হয়ে উঠুক— যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের হজকে কবুল করুন, দোয়াগুলো গ্রহণ করুন এবং আমাদের জীবনকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন। আমিন।