বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত)’ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ পাবেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থল পরিবর্তনের দাবিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বুধবার (৬ মে) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন নীতিমালার বৈশিষ্ট্য
নতুন এই নীতিমালার ফলে এখন থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষকরা। আবেদনের যোগ্যতা ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাকরির বয়স: প্রথম যোগদানের পর অন্তত দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একবার বদলি হওয়ার পর পরবর্তী বদলির জন্য পুনরায় দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। আবেদনের সংখ্যা: একজন শিক্ষক তার পুরো কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। বাৎসরিক প্রক্রিয়া: প্রতিবছর সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ ও বদলির কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
বদলির অগ্রাধিকার ও শর্তাবলি
আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যে কোনো জেলায় আবেদন করা যাবে। বিশেষ বিবেচনায় স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা তাদের কর্মস্থল জেলায় (সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হলে) বদলির আবেদন করা যাবে। একটি পদের বিপরীতে একাধিক আবেদনকারী থাকলে নারী, দূরত্ব, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ জন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন এবং এক বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষককে বদলি করা হবে না।
আবেদন ও যোগদান প্রক্রিয়া
শিক্ষকরা অনলাইনে সর্বোচ্চ ৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এই আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করবেন। বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। বদলিকৃত শিক্ষকদের ইনডেক্স অনলাইনে ট্রান্সফার হবে এবং তাদের এমপিও, জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বজায় থাকবে।
নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য হবেন না। এ ছাড়া বদলিকে কোনোভাবেই অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং এর জন্য কোনো টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে না। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমানের সই করা এই নীতিমালা জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।



