মক্কার হারাম এলাকার সীমানা: বিস্তারিত বিবরণ ও ইসলামী নির্দেশনা
মক্কার হারাম এলাকার সীমানা: বিস্তারিত বিবরণ

মক্কা নগরী এবং তার চারপাশের একটি নির্দিষ্ট পরিধি ইসলামে ‘হারাম’ বা অতি সম্মানিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সম্মানিত স্থান হিসেবে নির্ধারিত। তিনি ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে তার নবী ও খলিল হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে হারামের সীমানা দেখিয়ে দেন। এরপর হজরত ইবরাহিম (আ.) জিবরাইল (আ.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সীমানা চিহ্নিত করতে স্তম্ভ স্থাপন করেন।

মক্কার হারাম এলাকার সীমানা কতটুকু?

ইসলামে হারাম শরিফ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি স্থান। এখানে মুশরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে হত্যা, মারামারি, যুদ্ধ-বিগ্রহ কিংবা যে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত করা হারাম। শুধু তাই নয়, হারামের সীমানার ভেতরে কোনো পশু-পাখি বা জীবজন্তুকে হত্যা করা কিংবা তাড়িয়ে দেওয়াও নিষিদ্ধ। এমনকি কাটাযুক্ত গাছ বা ঘাস কাটা পর্যন্তও এখানে হারাম হিসেবে গণ্য।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন— ‘(বলো) আমাকে তো নির্দেশ দেয়া হয়েছে এই শহরের রবের ইবাদত করতে—যিনি এটিকে সম্মানিত করেছেন; এর সব কিছু তাঁরই অধিকারে। আর আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।’ (সুরা নামল: আয়াত ৯১)

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন— ‘যেদিন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিনই মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। কেয়ামত পর্যন্ত এটি হারামই থাকবে।’ (বুখারি ৩১৮৯)

হারামের সীমানা

কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে হারামের সীমানা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. তানঈম: মদিনার পথে অবস্থিত। এখানে ‘মসজিদে আয়েশা’ নামে একটি প্রসিদ্ধ মসজিদ রয়েছে। মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার।
  2. নাখলাহ: মক্কা থেকে তায়েফ যাওয়ার পথে অবস্থিত। মসজিদে হারাম থেকে দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার।
  3. জি-ইররানাহ: এটিও তায়েফের দিকেই অবস্থিত। মসজিদে হারাম থেকে দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার।
  4. এযাতু লাবান (বর্তমানে আকীশিয়্যাহ): মসজিদে হারাম থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
  5. হুদাইবিয়্যাহ (শুমাইসিয়াহ): মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার।
  6. জাবালে আরাফাত (যাতুস্সালীম): এ স্থানটিও মসজিদে হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে।

মোট সীমানা

মোট কথা, মক্কার হারামের সীমানা পশ্চিম দিকে জেদ্দার পথে ২২ কিলোমিটার। দক্ষিণে ‘তিহামা’ হয়ে ইয়েমেন যাওয়ার পথে ১২ কিলোমিটার। পূর্বে ‘ওয়াদিয়ে উয়ায়না’ নামক স্থানের পশ্চিম কিনারা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার। উত্তর-পূর্ব দিকে ‘জি-ইরানা’-এর পথে ১৬ কিলোমিটার। উত্তরে ‘তানঈম’ নামক স্থান পর্যন্ত, যা মক্কা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে।

হারাম এলাকায় প্রবেশের আদব

হারাম এলাকায় প্রবেশের সময় বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা উচিত। বিনয় ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তালবিয়া ও দরুদ পাঠ করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেদ্দা থেকে মক্কায় প্রবেশের ক্ষেত্রে শুমাইসি বা হুদাইবিয়্যাহ এলাকা থেকেই হারামের সীমানা শুরু হয়। সম্ভব হলে এখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম।

হারামে প্রবেশের আগে গোসল করা মুস্তাহাব। বর্তমানে যাত্রাপথে সব সময় গোসলের সুযোগ না থাকায়, মক্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই গোসল করে নেওয়া ভালো।

আর মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় সাধারণ মসজিদে প্রবেশের সুন্নতগুলো পালন করা উচিত। যেমন—বিসমিল্লাহ বলা, দরুদ পাঠ করা, ‘আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রহমাতিক’ দোয়া পড়া এবং ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা সুন্নত।