মুসলিম হিজড়া ব্যক্তি মারা গেলে তাদের গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, জানাজার নামাজ পড়া ও দাফন করার বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এই বিধান নির্ভর করে মৃত ব্যক্তির বাহ্যিক অবয়ব ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর।
পুরুষ সদৃশ হিজড়ার ক্ষেত্রে বিধান
যে হিজড়ার বাহ্যিক অবয়ব পুরুষের মতো, অর্থাৎ তার দেহের গঠন, চেহারা ও অন্যান্য নিদর্শন পুরুষের অনুরূপ, তার মৃত্যুর পর তার লাশের ক্ষেত্রে পুরুষ মাইয়েতের (মৃত ব্যক্তি) বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তাকে গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, জানাজার নামাজ পড়া ও দাফন করা—সবকিছুই পুরুষের মতো করা হবে। পুরুষরাই তাকে গোসল দেবে এবং জানাজার নামাজে তাকে পুরুষ মাইয়েত হিসেবে সম্বোধন করতে হবে।
নারী সদৃশ হিজড়ার ক্ষেত্রে বিধান
আর যে হিজড়ার অবয়ব নারীর মতো এবং তার মধ্যে মেয়েলি নিদর্শনই প্রবল, তার মৃত্যুর পর তার গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, জানাজার নামাজ ও দাফন করাসহ সব বিষয়ে নারী মাইয়েতের বিধান প্রযোজ্য হবে। নারীরাই তাকে গোসল দেবে এবং তার মাহরাম (যাদের সঙ্গে বিবাহ সম্পর্ক হারাম) পুরুষরা দাফন করবে। জানাজার নামাজে তাকে নারী মাইয়েত হিসেবে সম্বোধন করা হবে।
এই বিধানগুলো ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সূত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কিতাবুল আছল (৯/৩২২), শরহু মুখতাসারিত তাহাবি (৪/১৪৯), আলইখতিয়ার লিতালিলিল মুখতার (২/৫০৬) এবং রদ্দুল মুহতার (৬/৭২৭)। এসব গ্রন্থে হিজড়ার জানাজা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুসলিম সমাজে হিজড়া ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শরিয়তের এই বিধান মেনে চলা উচিত, যাতে তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা পায়। ইসলাম সব মানুষের জন্যই সম্মানজনক ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা প্রদান করেছে।



