সফলতা মানবহৃদয়ের কাঙ্ক্ষিত অনুষঙ্গ। আমরা সবাই সফল হতে চাই, সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠতে চাই। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই সফলতার দেখা মিলবে কীভাবে? কোন সে পথ, যা ধরলে দুনিয়ার জীবন হবে প্রশান্তিময় আর আখেরাতে মিলবে বেহেশতের অকল্পনীয় নেয়ামতরাজি? আসুন, মানবজাতির সফলতার মূলমন্ত্র পবিত্র কোরআনের কাছ থেকে জেনে নিই সেই অব্যর্থ পাথেয়।
নামাজ: সফলতার চাবিকাঠি
নামাজ মানবজীবনে সফলতা লাভের অনন্য মাধ্যম। নামাজ মানুষের জীবন সুন্দর ও আলোকিত করে। নামাজ সফল মুমিনের প্রধান গুণ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সফলতা লাভ করেছে মুমিনগণ, যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১-২) এই আয়াতে সফল মুমিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে ‘আন্তরিকভাবে বিনীত’ নামাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের পরিভাষায় একে বলে ‘খুশু–খুজু’।
নামাজের পবিত্রতা ও পাপমোচন
নামাজ ব্যক্তিকে পাক-পবিত্র জীবনবোধে উদ্দীপ্ত করে। আল্লাহর অবাধ্যতার অন্ধকার থেকে পুণ্যের আলোকময় এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। যথার্থভাবে নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত ব্যক্তির মনন-মানসে পবিত্র আমেজ বিরাজ করে। ফলে তাঁর পক্ষে অন্যায়, অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়ে যায়। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নামাজ ব্যক্তিকে অশ্লীল ও পাপের কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও বাড়ির দরজার সামনে যদি একটি নদী থাকে আর সে সেই নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবিরা বললেন, না, তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে না। তিনি বললেন, এটিই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দৃষ্টান্ত। এর দ্বারা আল্লাহ–তাআলা বান্দার পাপগুলো মুছে নিঃশেষ করে দেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৭)
নামাজে রহমত ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি
আমরা সবাই আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। রহমতপ্রাপ্তির অনন্য একটি উপায় হচ্ছে একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করে যাওয়া। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো; যাতে তোমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করা হয়।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৫৬)
আবু জর গিফারি (রা.) বলেন, শীতকালে একদিন নবীজি বাইরে বের হলেন। গাছ থেকে তখন পাতা ঝরছিল। নবীজি একটি গাছের দুটি ডাল হাত দিয়ে ধরলে সেখান থেকে পাতা ঝরতে থাকে। তখন নবীজি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘হে আবু জর, একজন মুসলমান যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করে, তখন এই গাছের পাতাগুলোর ন্যায় তার পাপগুলোও ঝরে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২১৫৫৬; শুআবুল ইমান, হাদিস: ২৯৬০)
সব মুমিন জান্নাতে যেতে চায়। এই জান্নাতের দেখা পেতে হলে নামাজে নিয়মিত হতে হবে। একাগ্রচিত্তে ধীরস্থিরভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে মহান প্রতিপালক বান্দাকে জান্নাতে পৌঁছে দেবেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ বান্দার ওপর যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন, যে ব্যক্তি তা গুরুত্বসহকারে আদায় করবে এবং কোনো রূপ অবহেলা করবে না, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২৫)
এভাবে নামাজ ব্যক্তির জীবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও পরিচ্ছন্ন করে তোলে, জীবনে রহমতের ফল্গুধারা বয়ে আনে এবং আখেরাতে নাজাতের পথ সুগম করে। তাই আসুন, আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মনোযোগী হই এবং আলোকিত জীবন গড়ে জান্নাতুল ফিরদাউসের পথে এগিয়ে যাই।
আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম টঙ্গী



