ইসলামে দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) ১০ জিলহজ দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদের রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত
ঈদের রাতটি অত্যন্ত বরকতময় ও ফজিলতময়। অনেকেই এ রাতটি হেলায়-ফেলায় কাটিয়ে দেন। অথচ ফকিহরা দুই ঈদের রাতে জাগ্রত থাকাকে সুন্নত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এ রাতের বিশেষ কদর করা উচিত। এর গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।
পাঁচ রাত জাগ্রত থাকার ফজিলত
ঈদুল আজহার রাতে ইবাদতের মাধ্যমে জান্নাত আবশ্যক হয়। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জাগ্রত থাকবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।” রাতগুলো হলো:
- জিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত
- জিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফাত দিবসের রাত)
- ঈদুল আজহার রাত
- ঈদুল ফিতরের রাত
- ১৫ শাবানের রাত
(সূত্র: আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি: ২/৯৮, হাদিস: ১৬৫৬)
ঈদের রাতে দোয়া কবুল
ঈদের রাতে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, “যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাতসহ এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে, সে রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।” (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৯২৭)
ঈদের রাতে ইবাদতের বিশেষ পুরস্কার
ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তর কেয়ামতের দিন মরবে না। হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াব পাওয়ার নিয়তে ইবাদত করবে, তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৮২)
সুতরাং ঈদুল আজহার রাতের ইবাদতের মাধ্যমে জান্নাত লাভ, দোয়া কবুল ও কেয়ামতের দিন হৃদয় জীবিত থাকার মতো অমূল্য পুরস্কার পাওয়া যায়। তাই এই বরকতময় রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানো প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।



