কোরবানি মানে শুধু পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার এক মহান শিক্ষা। প্রতি বছর আরবি মাস জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে বিশ্বের মুসলমানরা মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য কোরবানি দিয়ে থাকেন। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, কোরবানির ঈদের দিন বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির গোশত বিক্রি করা হয়। তাই অনেকেই জানতে চান, কোরবানির গোশত বিক্রি করা ইসলামি শরিয়তে জায়েজ কি না।
ইসলামি শরিয়তে কোরবানির গোশত বিক্রির বিধান
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির গোশত বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ কোরবানির পশু আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। তাই এর গোশত বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা ইবাদতের উদ্দেশ্যের পরিপন্থি। হাদিসে এসেছে, হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া ও অন্যান্য অংশ সদকা করে দিই এবং জবাইকারীর পারিশ্রমিক সেখান থেকে না দিই।’ (মুসলিম: ১৩১৭)
কোরবানির গোশত বিক্রির ক্ষেত্রে করণীয়
শরিয়ত মোতাবেক, কোরবানির পশুর কোনো অংশ (যেমন: গোশত, চামড়া, চর্বি বা হাড়) বিক্রি করে ব্যক্তিগত কাজে অর্থ ব্যবহার করা বৈধ নয়। যদি কেউ ভুলবশত বিক্রি করে, তাহলে সেই অর্থ সদকা করে দিতে হবে। কোরবানির গোশত বিতরণের ক্ষেত্রে তিন ভাগে ভাগ করা উত্তম: একভাগ নিজের ও পরিবারের জন্য, একভাগ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য এবং একভাগ দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য।
কোরবানির চামড়াও বিক্রি করা জায়েজ নয়; বরং তা সদকা করে দেওয়া বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা উচিত। অনেকেই কোরবানির চামড়া বিক্রি করে সেই অর্থ মসজিদ বা মাদ্রাসায় দান করেন, যা শরিয়তসম্মত নয়। বরং চামড়া সরাসরি দান করাই উত্তম।



