বিয়েতে মেয়ের জামাইকে মেয়ের বাড়ি থেকে উপহার হিসেবে স্বর্ণের আংটি দেওয়া একটি প্রচলিত রীতি। তবে একজন মুসলমান পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি পরিধান করা জায়েজ কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ বিষয়ে জনপ্রিয় আলেম ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন।
উপহার গ্রহণ বৈধ, কিন্তু পরিধান নয়
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, উপহার হিসেবে স্বর্ণের আংটি গ্রহণ করা যাবে, কিন্তু একজন মুসলমান পুরুষ তা পরিধান করতে পারবেন না। কারণ পুরুষদের জন্য স্বর্ণ বা কোনো অলংকার ব্যবহার করা ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, স্বর্ণের আংটি উপহার হিসেবে নিয়ে সেটি অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া, বিক্রি করে দেওয়া কিংবা যত্ন করে রেখে দেওয়া যেতে পারে। তবে নিজে পরিধান করা বা ব্যবহার করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।
জামাই যদি শরীয়াহ না জানে
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, যদি এমন হয় যে স্বর্ণের আংটি উপহার দিলে মেয়ের জামাই তা পরিধান করবেন, কারণ তার শরীয়াহ সম্পর্কে জ্ঞান নেই, তাহলে শ্বশুরবাড়ির দায়িত্ব হলো জামাইকে স্বর্ণের আংটির পরিবর্তে এমন কিছু উপহার দেওয়া যা শরীয়াহ অনুযায়ী নিষিদ্ধ নয়। এতে করে জামাই অজান্তে কোনো নিষিদ্ধ কাজ করবেন না।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, পুরুষের জন্য সোনা ও রেশম পরিধান হারাম। তাই উপহার দেওয়ার সময়ও এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যে কোনো উপহার গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরীয়াহ মেনে চলতে হবে।



