যমুনা টেলিভিশনের একযুগ পূর্তি: সালমা ইসলামের অঙ্গীকার, সত্যের পথে অবিচল থাকার
যমুনা টেলিভিশনের একযুগ পূর্তি: সালমা ইসলামের অঙ্গীকার

যমুনা টেলিভিশনের একযুগ পূর্তি: সালমা ইসলামের অঙ্গীকার, সত্যের পথে অবিচল থাকার

যমুনা টেলিভিশন তার প্রতিষ্ঠার একযুগ পূর্ণ করেছে, যার উদযাপন অনুষ্ঠান রোববার রাতে যমুনা ফিউচার পার্কে আড়ম্বরপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, "দর্শকরাই যমুনা টেলিভিশনের শক্তি। দর্শকদের ভালোবাসায় আজ যমুনা টেলিভিশন এক যুগ পার করেছে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যমুনা টেলিভিশন সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে পিছপা হবে না।" তিনি এ যাত্রায় দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি

যমুনা টেলিভিশনের এই যুগপূর্তি অনুষ্ঠানে দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ-সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিজ্ঞাপন দাতা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সমাজের নানা শ্রেণিপেশার মানুষ শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হন। বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্য অতিথিদের নিয়ে কেক কাটেন সালমা ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে যমুনা গ্রুপের মরহুম চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ও যমুনা টেলিভিশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইমন ড্রিং-কে স্মরণ করা হয়।

বক্তাদের মূল বক্তব্য

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, "যমুনার ১২ বছরকে বলা হয়েছে ভালোবাসার এক যুগ। বাংলাদেশের মানুষ যখন বিপদে ছিল তখন পাশে ছিল যমুনা টেলিভিশন। ১ মিনিটের জন্যও বেইমানি করেনি।" তিনি আরও যোগ করেন যে যমুনা টিভি যমুনা নদীর মতো বহমান হয়ে সাগরে পৌঁছাবে, যার কোনো সীমা থাকবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "২৪-এর আন্দোলনে আমি জেলে থাকাকালীন একজন কারারক্ষী আমাকে দেশের খবরাখবর দিত, যিনি শুধু যমুনা টিভি দেখতেন। এটি একটি টিভির আস্থার প্রমাণ।" জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতার দৃঢ়তাকে স্মরণ করে বলেন, যমুনা টিভির কর্মীরাও মিথ্যার কাছে মাথা নত করেন না।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, "ঘটনার মধ্যে দিয়ে পরীক্ষা হয়। জুলাইয়ের পরীক্ষায় সত্যের পক্ষে থেকে সাহস দেখিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে যমুনা টেলিভিশন।" যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী দিনে সত্য ও সুন্দরের সঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

যমুনা টেলিভিশনের ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতি

বক্তারা উল্লেখ করেন যে যমুনা টেলিভিশন নির্দিষ্ট কোনো প্রজেক্ট, শ্রেণি বা পক্ষের নয়, বরং সব শ্রেণিপেশার নাগরিকের কথা বলে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে দুঃসাহসিকভাবে তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে, যা তরুণদের আন্দোলনে উৎসাহ যুগিয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশনের চেষ্টা করে আসছে এই চ্যানেল। অনুষ্ঠানে একটি প্রতিবেদন দেখানো হয়, যাতে ২৪-এর আন্দোলনে যমুনা টিভির কর্মীদের সাহসিকতা ও সত্যের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরা হয়।

যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম উপস্থিত শুভানুধ্যায়ীদের স্বাগত জানান। গ্রুপ পরিচালক মনিকা নাজনীন ইসলাম, সুমাইয়া রোজালিন ইসলাম, এসএম আব্দুল ওয়াদুদ, জাকির হোসেন ও মেহনাজ ইসলাম তানিয়াসহ অন্যান্য সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানটি যমুনা টেলিভিশনের একযুগের সাফল্য ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।