আশা ভোসলে ও সায়রা বানুর শেষ সাক্ষাৎ: রমজানে দেখা ও স্মৃতির আড্ডা
প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা যাওয়ার আগে রমজান মাসে অভিনেত্রী সায়রা বানুর সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। সায়রা বানু জানান, আশার দুর্বল চেহারা দেখে তিনি মন খারাপ করেছিলেন, কিন্তু এত দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়বেন ভাবতে পারেননি।
রমজান মাসে শেষ কথোপকথন
পবিত্র রমজান মাস চলাকালে একটি অনুষ্ঠানে আশা ভোসলে ও সায়রা বানুর সাক্ষাৎ হয়। অনেকক্ষণ তাঁরা একসঙ্গে কথাবার্তা বলেন। সেই সময়ই আশা ভোসলের শরীরে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। তাঁর চেহারার দুর্বলতায় মন খারাপ হয়েছিল সায়রা বানুর।
সাক্ষাৎকারে সায়রা বানু বলেন, ‘রমজান মাসেই আমাদের কথা হয়েছিল। আমি তাঁর একটি সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম, যেখানে রমজান, ঈদ এবং রোজার প্রতি ভালোবাসার কথা বলছিলেন। আমি সেটা শুনে খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সে জন্যই ফোন করেছিলাম যে ওঁর সঙ্গে এগুলো নিয়েই একটু কথা বলব। ওটাই ছিল আমাদের শেষ কথা। তখন বুঝতেই পারিনি যে হঠাৎ এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এটা আমার কাছে ভীষণ অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা।’
অর্জুন টেন্ডুলকারের বিয়েতে শেষবার দেখা
সায়রা বানু আরও যোগ করেন, ‘আমার যত দূর মনে পড়ছে, একটি অনুষ্ঠানে সম্ভবত অর্জুন টেন্ডুলকারের বিয়েতে দেখেছিলাম। তখন খুব দুর্বল দেখাচ্ছিল। ওখানেই শেষবার দেখেছিলাম। ওঁর এই অবস্থা দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছিল। ভাবতেই পারিনি যে হঠাৎ করে এতটা অসুস্থ হয়ে পড়বেন।’
২০১২ সালের ৭ মার্চ ঢাকায় ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রথম আলোকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী আশা ভোসলে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও স্মৃতি
সায়রা বানু বলেন, ‘আশা ও লতাজি আমাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আমরা একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। দিলীপ সাহেব এবং আমার ওঁদের সঙ্গে অনেক সুখের স্মৃতি রয়েছে। আমরা তো একেবারে সেই পুরোনো দিনের, ধ্রুপদি মনের মানুষ। গান, খাওয়াদাওয়া নিয়ে অনেক আড্ডা হতো।’
বন্ধুকে হারানোর যন্ত্রণা ভাগ করে সায়রা বানু বলেন, ‘আশা ভালো খাবারের বিষয়ে ভীষণ শৌখিন ছিলেন। ওঁর একটি রেস্তোরাঁও আছে। যদিও আমি কখনো ওঁর রান্না খাইনি, কিন্তু আশাজি আর লতাজি আমাদের বাড়িতে খেতে আসতেন। একজন বন্ধুকে হারানোর কী ভয়ংকর অনুভূতি! যাঁদের ভালোবাসি তাঁদের হারানো সত্যিই খুব বেদনাদায়ক।’
এই সাক্ষাৎকারটি হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। আশা ভোসলে ও সায়রা বানুর এই শেষ সাক্ষাৎ ও স্মৃতিচারণা সংগীত ও বিনোদন জগতে একটি মর্মস্পর্শী অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।



