আশা ভোসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হৈমন্তী শুক্লা, ভারতীয় সংগীতের স্বর্ণযুগের সমাপ্তি
ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে প্রয়াণে গোটা দেশ শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
হৈমন্তী শুক্লার আবেগপ্রবণ শোকবার্তা
এই মর্মান্তিক সংবাদে ভেঙে পড়েছেন বাংলা তথা ভারতের প্রবীণ সংগীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা। আশা ভোসলের প্রয়াণে নিজের শোকবার্তা জানাতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। হৈমন্তী শুক্লা বলেন, "ভাবতেই পারছি না আশাদি আর নেই। এই তো সেদিন বিদেশ থেকে অনুষ্ঠান করে এলেন। জানি বয়সটা বড় ফ্যাক্টর। লতাদির চলে যাওয়ার পর আশাদি-ই ছিলেন আমাদের সবার মাথার ওপর একটা বড় ভরসা। আজ মনে হচ্ছে মাথা থেকে ছাতাটা সরে গেল।"
ভারতীয় সংগীত ইতিহাসের একটি যুগের সমাপ্তি
লতা মঙ্গেশকরের পর তার বোন আশা ভোসলের এই চলে যাওয়া যেন ভারতীয় সংগীত ইতিহাসের একটি স্বর্ণযুগের সমাপ্তি ঘটাল। সংগীত জগতের এক নক্ষত্রের পতন হলো, সুরের মায়া কাটিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ২০টিরও বেশি ভাষায় কয়েক হাজার গান উপহার দিয়েছেন, যা আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।
পুরস্কার ও সম্মাননা
আশা ভোসলে তার অসামান্য অবদানের জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
- দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার
- পদ্মবিভূষণ সম্মান
তার গাওয়া কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে "দম মারো দম", "চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে" এবং বাংলা গান "আজ এই দিনটাকে" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
এই প্রয়াণে শুধু হৈমন্তী শুক্লা নন, গোটা সংগীত জগৎ ও দেশবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আশা ভোসলের অবদান ভারতীয় সংগীতকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে, এবং তার সুরেলা কণ্ঠস্বর অনন্তকাল মানুষের হৃদয়ে ধ্বনিত হবে।



