বিএনপির নারী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন সংগীতশিল্পী দিলরুবা খান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নারী সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলরুবা খান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হয়ে এ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শনিবার এ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
দিলরুবা খানের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অভিপ্রায়
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ‘পাগল মন’খ্যাত সংগীতশিল্পী দিলরুবা খান বলেন, “দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও নিজের ভাবনা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দলের যেসব সদস্য অনেক ত্যাগী এবং দল যাদের যোগ্য মনে করবে, তাদেরই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা উচিত।
দিলরুবা খান তার রাজনৈতিক পদক্ষেপের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমার নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা আছে। সরকারে থেকে এ কাজগুলো বড় পরিসরে করা সম্ভব—এ কারণেই আমি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।” তিনি এও মন্তব্য করেন যে, বিগত সরকারের আমলে বিএনপি করায় তিনি বেতার-টেলিভিশনে ব্ল্যাকলিস্টেড ছিলেন, তবে তার চেয়েও অনেক ত্যাগী কর্মী দলে রয়েছেন।
অন্যান্য সংগীতশিল্পীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ
এদিকে, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসে দলীয় নেত্রীদের তোপের মুখে পড়েন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। তবে এ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এবং “আমি আশাবাদী” বলে মন্তব্য করেছেন।
আরেক সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীন জয়পুরহাট-২ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলেও জানা গেছে। সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখদের রাজনীতির মাঠে সক্রিয় অংশগ্রহণ ঘিরে এরই মধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বদের রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। দিলরুবা খানের মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা যদি নির্বাচিত হন, তবে তা দলের ভোটার সমর্থন ও জনসংযোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, দলীয় অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগে আরও অনেক আলোচনা ও বিতর্কের মুখোমুখি হতে হবে।
এসব উন্নয়ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও গতিশীল করে তুলছে, যেখানে নারী সংরক্ষিত আসনগুলোতে মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। সংগীতশিল্পীদের এই রাজনৈতিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিনোদন ও রাজনীতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলছে।



