জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনে উদ্বোধনী দিনে মানবিকতার বার্তা
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দুই দিনের জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের উদ্বোধন হয়েছে। সকাল ১০টায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের সূচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ এই আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে, যা তাদের ৪৪তম বার্ষিক অধিবেশন হিসেবে চিহ্নিত।
সংগীত প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
সম্মেলন উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ৫০ জন শিল্পী অংশ নেন। সাধারণ ও কিশোর—এই দুই বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী পর্ব শেষে সন্ধ্যা ছয়টায় প্রদীপ প্রজ্বালন, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, আবৃত্তি ও জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ গানটির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যেখানে ত্রপা মজুমদার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
বক্তাদের জোরালো বক্তব্য: সংকট মোকাবিলায় রবীন্দ্র দর্শন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর উত্থানের পেছনে লোভ ও শক্তির লড়াই কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই উত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের সংকটের একটি বহিঃপ্রকাশ। সংকট কাটাতে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন, বলেছেন যে রবীন্দ্রনাথের আলোর পথ অনুসরণ করে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি মফিদুল হক সম্মেলনে মন্তব্য করেন, ধর্মের নামে ধর্মান্ধতা ও বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে সমাজকে আক্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সবকিছু থেকে বের হয়ে আসতে সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে, কারণ বাংলার সংস্কৃতি অসাম্প্রদায়িক। সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।
আজকের অনুষ্ঠানসূচি: দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি
আজ শনিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বেলা সাড়ে ১১টায় ‘বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সংগীত’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে সাধারণ ও কিশোর বিভাগের সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
এই সম্মেলনটি রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে তাঁর মানবিক দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরছে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, সংস্কৃতি ও শিল্পের মাধ্যমে একটি সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



