বিটিএসের সাফল্যের নেপথ্যে: আরএমের মুখে দলের অটুট বন্ধনের গল্প
বিশ্বখ্যাত কে-পপ গ্রুপ বিটিএস আজ শুধু একটি সঙ্গীত দল নয়; কোটি কোটি ভক্তের কাছে এটি এক আবেগ ও পরিবারের নাম। আগামী জুনে দলটি তাদের অভিষেকের ১৩ বছরপূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে সামনে এসেছে তাদের দীর্ঘ ১৪ বছরের অটুট বন্ধনের গল্প। সম্প্রতি একটি ইউটিউব শোতে মুন স্যাং-হুনের সঙ্গে কথোপকথনে দলের নেতা আরএম দলের ভেতরের সম্পর্ক ও যাত্রাপথ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
পারস্পরিক বোঝাপড়াই মূল শক্তি
আরএম জানিয়েছেন, কীভাবে সাত সদস্য— জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি, জানকুক এবং তিনি নিজে— এত বছর ধরে একসঙ্গে টিকে আছেন। বিটিএস সবসময় তাদের ভক্তদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তারা শুধু গান গাইতেই ব্যস্ত নয়; বরং প্রতিটি কাজের মাধ্যমে ভক্তদের জন্য অর্থবহ বার্তা দিতে চায়। এই পারস্পরিক ভালোবাসা ও সংযোগই তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১৩ বছরপূর্তি ও নতুন অ্যালবাম
আগামী ১৩ জুন দলটি তাদের ১৩ বছরের সংগীতযাত্রা উদযাপন করবে। যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৩ সালে অভিষেক করেছে, কিন্তু তাদের বন্ধন আরও অনেক আগে থেকে গড়ে উঠেছে। এই দীর্ঘ পথচলায় তারা শুধু একটি ব্যান্ড নয়; বরং একে অপরের পরিবারে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি বিটিএস তাদের নতুন কামব্যাক অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশ করেছে। প্রায় তিন বছর ৯ মাস পর একসঙ্গে ফিরে আসায় দলটি প্রমাণ করেছে, সময় তাদের সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারেনি; বরং আরও শক্তিশালী করেছে। অ্যালবামটির জন্য তারা একসঙ্গে কাজ করে প্রায় ১০০টি গান তৈরি করেছেন, যার মধ্যে ১৪টি চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
দৈনন্দিন রুটিন ও সৃজনশীলতা
আরএমের মতে, বিটিএসের শক্তির মূল কারণ তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর লস অ্যাঞ্জেলেসে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত বিশেষ। এক ছাদের নিচে সাতজন একসঙ্গে থাকা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারত, কিন্তু তাদের জন্য তা নতুনভাবে শুরু করার মতো ছিল। দৈনন্দিন জীবনে তারা একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতেন: সকালে একসঙ্গে ব্যায়াম, দুপুরে খাবার, তারপর স্টুডিওতে গিয়ে গান লেখা এবং রাতে আবার একসঙ্গে খাবার ও আড্ডা। এই সময়ের মধ্যেই তারা নিজেদের সৃজনশীলতা বাড়িয়ে তোলেন এবং নতুন গান তৈরি করে ভক্তদের জন্য উপহার প্রস্তুত করেন।
ভক্তদের প্রতি অঙ্গীকার
আরএম বলেন, ‘১৪ বছর ধরে আমরা একসঙ্গে আছি, কেউ দল ছেড়ে যায়নি, এটি সত্যিই বিশেষ কিছু। আমাদের সবার মধ্যে দয়া ও সহানুভূতি আছে। সবচেয়ে বড় কথা— আমরা সবাই আমাদের ভক্তদের, অর্থাৎ আর্মিদের জন্য কিছু অর্থবহ দিতে চাই। এই একটিই বিষয় আমাদের আরও শক্তভাবে একত্রে ধরে রাখে।’ এই অঙ্গীকার ও দলের ঐক্য বিটিএসকে বিশ্বব্যাপী সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।



