বগুড়ায় জমজমাট টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের ২০তম আসর
বগুড়া শহরে পা রাখতেই উৎসবের আবহ স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যান্ড পার্টির বাজনা এবং জনপ্রিয় গানের সুর ভেসে আসছে। মোড়ে মোড়ে রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত পুরো শহর যেন এক বর্ণাঢ্য সংগীত উৎসবের জন্য উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছে। সন্ধ্যা নামার আগেই বিভিন্ন স্পটে ভিড় জমতে শুরু করেছে, এবং পাঁচ তারকা হোটেল ‘মমো ইন’-এর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই সংগীত আসরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শিল্পী ও কলাকুশলীদের আগমনে সরগরম ভেন্যু
গতকাল সোমবার সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পী, কলাকুশলী ও আয়োজকদের আগমনে পুরো ভেন্যু সরগরম হয়ে উঠেছে। অনেক শিল্পী আগের দিনই এসে উঠেছেন, আবার কেউ কেউ মঙ্গলবার দুপুরে পৌঁছেছেন। হোটেলের লবি থেকে শুরু করে আঙিনা পর্যন্ত সব জায়গায় তারকাদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। দিনভর প্রস্তুতির পর সন্ধ্যায় রিহার্সাল শুরু হয়েছে, মঞ্চে ওঠার আগে শিল্পীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা পৌঁছানোর পর তাঁকে ঘিরে তরুণ শিল্পীদের সেলফি তোলার উচ্ছ্বাস উৎসবেরই আরেক রূপ প্রকাশ করছে।
আয়োজনের তদারকিতে ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ
আয়োজনের সার্বিক তদারকিতে রয়েছেন চ্যানেল আইয়ের দুই কান্ডারি ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ। তাঁদেরকে ঘুরে ঘুরে প্রস্তুতি তদারকি করতে দেখা গেছে—কোথাও আলো নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, কোথাও মঞ্চের নকশা পরীক্ষা করা হচ্ছে, আবার কোথাও শিল্পীদের পারফরম্যান্সের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। আয়োজনের প্রতিটি খুঁটিনাটি তাঁরা নিজ হাতে গুছিয়ে নিচ্ছেন। শিল্পীরা পোশাক পরিকল্পনা ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, এবং মঞ্চ, আলো, শব্দ ও প্রযুক্তিগত কাজে চূড়ান্ত প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
১৯টি বিভাগে পুরস্কার ও বিশেষ সম্মাননা
এবারের আসরে আজীবন সম্মাননাসহ মোট ১৯টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হবে। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন কনকচাঁপা। বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন লোকসংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া, যিনি ইতিমধ্যেই পরিবারসহ বগুড়ায় পৌঁছেছেন। শুধু সংগীতশিল্পী নন, বিনোদন অঙ্গনের নানা তারকার উপস্থিতিতেও আয়োজনের আবহ জমে উঠেছে। এখানে আফসানা মিমি, অপু বিশ্বাস, আদর আজাদ, শাহরিয়ার নাজিম জয় এবং চয়নিকা চৌধুরীসহ অনেকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বৈচিত্র্যময় সংগীত পরিবেশনা ও বিশেষ অতিথি
জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সংগীতের দিক থেকেও এবারের আসর বৈচিত্র্যময় হতে যাচ্ছে—মঞ্চে উঠবেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন, খুরশীদ আলম, রফিকুল আলম। পাশাপাশি সমকালীন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কোনাল, ঝিলিক, ইমরান মাহমুদুল, লিজা ও লুইপার পরিবেশনা মঞ্চকে মাতিয়ে তুলবে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন নীল হুরেজাহান।
নতুন মাত্রায় দুই দশকের আয়োজন
আয়োজনের প্রকল্প পরিচালক নির্মাতা রাজু আলীম বলেন, ‘দুই দশকের এই আয়োজনকে আমরা এবার নতুন মাত্রায় নিতে চেয়েছি। শুধু পুরস্কার প্রদান নয়, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগীত উৎসবে রূপ দেওয়া হয়েছে। এখানে তিন শতাধিক শিল্পী অংশ নিচ্ছেন—প্রবীণ, মধ্যম ও তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা এক মঞ্চে উঠবেন। আমরা প্রযুক্তিগত দিক থেকেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বগুড়ায় এই আয়োজন করার পেছনে মূল ভাবনা ছিল ঢাকার বাইরে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা চাই, দেশের সব অঞ্চলের মানুষ যেন এমন আয়োজনের স্বাদ পায়। দর্শকদের জন্য চমক থাকবে, মঞ্চে বিশেষ পরিবেশনা ও ভিজ্যুয়াল ডিজাইনে নতুনত্ব আনা হয়েছে।’
সব মিলিয়ে, দুই দশকের ঐতিহ্য ধারণ করে উত্তরবঙ্গে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। আয়োজকদের মতে, সংগীতপ্রেমীদের জন্য এটি এক বর্ণাঢ্য, উৎসবমুখর ও স্মরণীয় রাত হতে যাচ্ছে, যা দেশের সংগীত অঙ্গনে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।



