সঞ্জীদা খাতুনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী: বাঙালি সংস্কৃতির অমর স্রষ্টার স্মরণ
বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব, সংগীতজ্ঞ, ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সঞ্জীদা খাতুনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৫ মার্চ। ২০২৫ সালের এই দিনে প্রায় ৯২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। সঞ্জীদা খাতুনের বিপুল কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবন সামগ্রিকভাবে বাঙালির মানস ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
একাধারে শিক্ষক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক নেত্রী
সঞ্জীদা খাতুন ছিলেন একাধারে শিক্ষক, গবেষক, শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, সংগঠক ও সক্রিয় সাংস্কৃতিক নেত্রী। তিনি দীর্ঘকাল ছায়ানট ও রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, তিনি ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নালন্দার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষা ও কর্মজীবনের উজ্জ্বল অধ্যায়
সঞ্জীদা খাতুনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল। তাঁর বাবা কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক, আর মা সাজেদা খাতুন গৃহিণী ছিলেন। সঞ্জীদা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৪ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৫৫ সালে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষকতা দিয়েই তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী
সঞ্জীদা খাতুন আজীবন যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দেশের সব ধরনের সংকটে সোচ্চার ছিলেন এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর অবদান শুধু সংস্কৃতি ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রভাব বিস্তার করেছে।
সঞ্জীদা খাতুনের জীবন ও কর্ম বাঙালি জাতির জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছে।



