একুশে পদক পেয়ে রিকশায় ফিরলেন ওয়ারফেজ, প্রধানমন্ত্রী তুলে দিলেন সম্মাননা
অমর একুশের ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড দল ওয়ারফেজকে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। প্রথমবার এই সম্মাননা পাওয়ার পর ওয়ারফেজের সদস্যরা রিকশাযোগে ফিরে এসেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রিকশায় ফেরার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন থেকে ফেরার পথে রিকশাচালকসহ হাস্যজ্জ্বল ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও গিটারিস্ট ইব্রাহিম আহমেদ কমল। ছবিগুলো শেয়ার করে পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “আমরা একুশে পদক গ্রহণ করে রিকশায় ফিরে এলাম।” এই সরল ও বিনয়ী আচরণ দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে, যা দলের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মাননা গ্রহণ
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা, বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিল্পীসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ারফেজের যাত্রা ও বর্তমান অবস্থা
হেভিমেটাল ব্যান্ড হিসেবে ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করে ‘ওয়ারফেজ’। ব্যান্ডটির বর্তমান লাইন আপের দলনেতা ও ড্রামসে টিপু, ভোকালে পলাশ, লিড গিটারে কমল, সামির ও সৌমেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সংগীত জগতে তাদের অবদান স্বীকৃতির মাধ্যমে এই পদক প্রাপ্তি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২০২৬ সালের অন্যান্য পদকপ্রাপ্তরা
২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন:
- জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা
- সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর)
- নৃত্যে অর্থি আহমেদ
- পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার
- চারুকলায় প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সাত্তার
- স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম
- সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান
- শিক্ষায় প্রফেসর ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার
- ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস
এই সম্মাননা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তাদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
