ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি দস্তগীর হকের জীবনাবসান
বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসের অন্যতম পুরোধা শিল্পী দস্তগীর হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দস্তগীর হক দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে অবস্থার অবনতি হলে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। শেষ পর্যন্ত সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
পরিবার ও শেষকৃত্য
মৃত্যুকালে তিনি তার স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র মাসাব হক–কে রেখে গেছেন। বুধবার বাদ আসর রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার নামাজে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। শিল্পীর পরিবার তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
সংগীত জীবনের অবদান
দস্তগীর হক ছিলেন সত্তর দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস’–এর লিড ভোকাল ও গিটারিস্ট। ১৯৭২ সালে গঠিত এই ব্যান্ডটি বাংলাদেশের আধুনিক ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যান্ডটির সংগীত পরিবেশনা সেই সময়ের তরুণ সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
পরিবারের সংগীত ঐতিহ্য
দস্তগীর হক কিংবদন্তি গিটারিস্ট নয়ন মুন্সী’র বড় ভাই এবং পাকিস্তানে সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত প্রখ্যাত শিল্পী আলমগীর হক–এর ছোট ভাই। তার বোন জর্জিনা হকও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই পরিবারটি কয়েক দশক ধরে উপমহাদেশের সংগীত ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
শোক ও স্মরণ
দস্তগীর হকের মৃত্যুতে দেশের সংগীতাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী শিল্পী, সংগীতপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে একজন নিরহংকারী, মেধাবী ও সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা শিল্পী হিসেবে স্মরণ করছেন। তার অবদান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ভিত্তি স্থাপনে অপরিহার্য ছিল।
