হানিফ সংকেতের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুলে দিলেন
দেশের সংস্কৃতি ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'স্বাধীনতা পুরস্কার' পেলেন জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'র উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত। তিনি একাধারে উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক, প্রযোজক, গায়ক, সুরকার ও গীতিকার হিসেবে পরিচিত।
প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার গ্রহণ
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হানিফ সংকেতের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান
- খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম
- স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ
- সংসদ সদস্যগণ
- বিচারপতিগণ
- তিন বাহিনী প্রধান
- ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা
মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান
এর আগে একই দিনে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।
অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য এবার মোট ১৪ ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছে। খালেদা জিয়া ছাড়া অন্যান্য মনোনীত ব্যক্তিগণ হলেন:
- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর)
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম
- সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর)
- সংস্কৃতিতে হানিফ সংকেত ও বশীর আহমেদ (মরণোত্তর)
- ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু)
- সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক ও মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর)
- জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর)
- গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া
- পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)
মনোনীত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ
- চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)
- সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ
- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র
স্বাধীনতা পুরস্কারের গুরুত্ব
স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
হানিফ সংকেতের পূর্বের অর্জন
হানিফ সংকেত এর আগে ২০১০ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তিনি জাতীয় পরিবেশ পদকও অর্জন করেছেন। তার পরিচালিত অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি' বহুবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সেরা টিভি অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার এই গুণী ব্যক্তিত্বের হাতে উঠল দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার।
হানিফ সংকেতের এই অর্জন বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তার বহুমুখী প্রতিভা ও দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছে।



