ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের ফি মওকুফ ও অন্যান্য সহায়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষার খরচে ছাড়
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনও রোগীর পরীক্ষার খরচ ১০ হাজার টাকা হলে তার মধ্যে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গুসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসা পরিস্থিতি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।’
ডেথ রিভিউ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি
ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর বিস্তারিত বিশ্লেষণ বা ‘ডেথ রিভিউ’ নিয়মিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়িয়ে সঠিক ও নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ডেঙ্গু শূন্যের কোঠায় থাকুক। কী হবে তা আগেভাগে বলা যায় না, তবে প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
সমন্বয় ও প্রশিক্ষণ
তিনি জানান, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় পরিচালক, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হচ্ছে। সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়েও সমন্বয় সভা করা হবে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে পেশাজীবী সংগঠনগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
কীটনাশকের কার্যকারিতা
মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়ে আলাদা বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত কীটনাশকের নমুনা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’ তার দাবি, ‘আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও উচ্চমানের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে।’ তবে মাঠপর্যায়ে স্প্রে কার্যক্রমে কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্বীকার করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও স্প্রে করার সময় ওষুধের সঙ্গে অতিরিক্ত কেরোসিন মেশানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। একারণে সিটি করপোরেশনগুলোকে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
সচেতনতা কর্মসূচি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আগামী শনিবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে একযোগে সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মাইকিং, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে। মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এটি একটি সামাজিক লড়াই। শনিবার থেকে আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সচেতনতামূলক আন্দোলন চালানো হবে।



