রবীন্দ্রসংগীত উৎসবে দুই শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণ
রবীন্দ্রসংগীত উৎসবে দুই শতাধিক শিল্পী

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার আয়োজনে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘৩৭তম (সপ্তত্রিংশ) জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব’। শনিবার (৯ মে) ও রোববার (১০ মে) আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের প্রতিপাদ্য ও উদ্বোধন

এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল—‘রথের চাকার রবে জাগাও জাগাও সবে, আপনার ঘরে এসো বলভরে, এসো এসো গৌরবে’। উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কথাশিল্পী অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার পক্ষ থেকে ‘কলিম শরাফী পুরস্কার ও সম্মাননা’ প্রদান করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও শিল্পী তিমির নন্দীকে।

উৎসর্গ ও স্মরণ

বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার প্রচার সম্পাদক শিল্পী খোকন চন্দ্র দাস জানান, এবারের উৎসব সদ্যপ্রয়াত উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে, প্রয়াত প্রবীণ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শাহজাহান হাফিজ এবং সদ্যপ্রয়াত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীনের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিল্পীদের অংশগ্রহণ

দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় দুই শতাধিক শিল্পী একক ও সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি নৃত্য, আবৃত্তি ও গীতি আলেখ্য পরিবেশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের নানা ভাবনা ও সৃষ্টির রসায়নে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও বর্ণাঢ্য মিলনমেলায় রূপ নেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অংশগ্রহণকারী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সংগীতাঞ্জলী, বুলবুল ললিতকলা একাডেমির বিভিন্ন শাখা, উত্তরায়ণ, বিশ্ববীণা, সুরতীর্থসহ বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য সংগঠন।

উল্লেখযোগ্য পরিবেশনা

দুই দিনের আয়োজনে শিল্পী তিমির নন্দী, রফিকুল আলম, বুলবুল ইসলাম, লিলি ইসলাম, লাইসা আহমেদ লিসা, খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম, পীযূষ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শিল্পী একক ও সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন। প্রতিদিন সকাল ১০টায় প্রাতঃকালীন এবং বিকাল ৪টায় সান্ধ্যকালীন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে খোকন চন্দ্র দাস বলেন, রবীন্দ্রচর্চা ও রবীন্দ্রসংগীতের শুদ্ধ ধারা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। দেশব্যাপী শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ উৎসব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ, নির্বাহী সভাপতি আমিনা আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক পীযূষ বড়ুয়া এবং প্রচার সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাসসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। আয়োজনটি সব রবীন্দ্রপ্রেমীর জন্য উন্মুক্ত ছিল।