নজরুল সংগীত গেয়ে ভাইরাল লায়লা বাউল
নজরুল সংগীত গেয়ে ভাইরাল লায়লা বাউল

ফরিদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, হাটবাজারে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় লায়লা বাউলকে। কখনো খালি পায়ে কখনো স্যান্ডেল পড়ে। মানুষের ভিড়ের মাঝে কখনো লোকগান, নজরুল সঙ্গীত, কখনো পুরোনো বাংলা গান গেয়ে নিজের মতো সময় কাটান এই ভবঘুরে নারী। তবে এবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছেন তিনি।

নজরুল সংগীত ‘নয়নভরা জল গো তোমার’

লায়লা বাউল তার গাওয়া নজরুল সংগীত ‘নয়নভরা জল গো তোমার’ গেয়ে প্রশংসায় ভাসছেন। শনিবার (২৪ মে) বিকালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে শহরের কমলাপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলে গানের আয়োজন করে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ। সেখানেই খালি গলায় অতিসাধারণ শাড়ি পড়ে লায়লা বাউল নজরুল সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত সবার নজর কাড়েন।

লায়লা বাউলের নজরুল সংগীতের সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদর আসনের এমপিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার সংগীত শুনে মুগ্ধ হন এবং তাকে প্রশংসা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সবার নজর কাড়লেন লায়লা

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলের আনন্দ অনুষ্ঠানে দেখা যায়, জীর্ণ শাড়ি পরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অতি সাধারণ পোষাকে মনের আনন্দে গান গাইছেন লায়লা। তার কণ্ঠ শুনে অনেকে ভারতের ভাইরাল শিল্পী রানু মণ্ডলের সঙ্গে তুলনা করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লায়লা বাউল দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার এক মেয়ে ও একটি পালক ছেলে রয়েছে। সন্তানরা বড় হয়ে সংসারী হলেও লায়লা আর সংসারে ফেরেননি। শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে অতি সাধারণভাবে গান গেয়েই কেটে যাচ্ছে তার জীবন। লোকসংগীতের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শিল্পীদের গানও গাইতে পারেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তাকে শহরে দেখছি। তিনি খুবই ভালো মনের মানুষ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে গান গেয়ে থাকেন। অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই তাকে গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার এ গান এভাবে ভাইরাল হবে তা ভাবতে পারিনি।

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন বলেন, অনেক বছর আগে থেকেই লায়লার গান শুনে মুগ্ধ আমি। শিল্পকলা একাডেমিতে গানের চর্চা চলার সময় চুপচাপ বসে থাকতে দেখতাম তাকে। একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন এভাবে ঘুরে বেড়ান? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মানুষ দেখি। দুনিয়াতে কত রকমের মানুষ, কারও সঙ্গে কারও মিল নাই। মানুষ দেখতে আমার ভাল্লাগে।’

ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, লায়লা বাউল যে এতো সুন্দর নজরুল সংগীত গাইতে পারেন তা আগে জানা ছিল না। তার গান শুনে আমি মুগ্ধ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তিনি বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম ও সাম্যেরও কবি। লায়লার খালি গলায় গাওয়া সুরেলা গান শুনে আমি নিজেও মুগ্ধ হয়েছি। নজরুল এর গান গেয়ে উপস্থিত সকলে প্রশংসা করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান পলাশ, প্রফেসর এম এ সামাদ, নাট্যকার ড. অনুপম হায়াৎ, সাংবাদিক বদিউজ্জামান চৌধুরীসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।