লাক্স সুপারস্টার ২০২৫: সাত বছর পর নতুন বিজয়ীর আবির্ভাব
দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ আবারও পেয়েছে নতুন লাক্স সুপারস্টার। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া এই জনপ্রিয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার দশম আসরের চূড়ান্ত পর্ব শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হলো, যেখানে বিদুষী বর্ণিতা জয়ী হয়েছেন প্রধান মুকুট।
বিজয়ীদের পুরস্কার ও আনন্দঘন মুহূর্ত
প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা পেয়েছেন স্বরোভস্কি ক্রিস্টালে তৈরি বিশেষ ট্রফি এবং একটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি। পুরস্কার তুলে দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস খান এবং অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। বিজয়ী বর্ণিতা তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, "পুরস্কার ঘোষণার সময় আমার পা এত কাঁপছিল, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। বারবার পা শিফট করছিলাম। যখন যাত্রা শুরু করি, তখন ভাবিনি এত দূর আসতে পারব। আল্লাহর রহমতে, মানুষের ভালোবাসায় আর নিজের পরিশ্রমে এখানে আসা।"
রানারআপদের সাফল্য ও পুরস্কার
প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল, যিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার চেক। অন্যদিকে দ্বিতীয় রানারআপ হিসেবে চট্টগ্রামের আমিনা ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়, যিনি পেয়েছেন তিন লাখ টাকা। চূড়ান্ত পর্বে সেরা পাঁচ প্রতিযোগী হিসেবে লড়াই করেছিলেন:
- আমিনা ইসলাম
- বিদুষী বর্ণিতা
- নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা
- তিস্তা পাল
- নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল
জমকালো আয়োজন ও শোবিজ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া চূড়ান্ত পর্বটি উপস্থাপনা করেন মোশাররফ করিম ও আরিফিন শুভ। অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন জেফার রহমান, ইরফান সাজ্জাদ, তৌসিফ মাহবুব, আরশ খান সহ আরও অনেক শিল্পী। এ সময় অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন জয়া আহসান, শিহাব শাহীন, আজমেরী হক বাঁধন, বিদ্যা সিনহা মিম, মেহজাবীন চৌধুরী, রুনা খান, মৌসুমী হামিদ সহ শোবিজ অঙ্গনের বহু গুণী ব্যক্তিত্ব। উল্লেখ্য, এবারের আসরের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী।
লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতাটি বাংলাদেশের বিনোদন জগতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা তরুণীদের জন্য একটি বড় মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। এবারের আসরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সাত বছর বিরতির পর প্রথম আয়োজন হিসেবে, এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



