স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬: বশির আহমেদ ও হানিফ সংকেতসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান মনোনীত
স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬: বশির আহমেদ ও হানিফ সংকেত মনোনীত

স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬: সংস্কৃতি অঙ্গনে বশির আহমেদ ও হানিফ সংকেতের বিশেষ সম্মাননা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ প্রদানের জন্য মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। এই তালিকায় সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে বিশেষভাবে সম্মানিত হচ্ছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর) এবং জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-এর উপস্থাপক ও নির্মাতা এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত)

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবির সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মনোনয়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য চলতি বছর এই দুই ব্যক্তিকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। মনোনীত তালিকায় সাত নম্বরে রয়েছেন হানিফ সংকেত এবং আট নম্বরে রয়েছেন বশির আহমেদের নাম।

অন্যান্য ক্ষেত্রের মনোনীতদের তালিকা

স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য মনোনীত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছেন:

  • সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া – স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য।
  • মুক্তিযুদ্ধে অবদান – ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ও মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর)।
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি – অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম।
  • চিকিৎসাবিদ্যা – ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
  • সাহিত্য – ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর)।
  • ক্রীড়া – জোবেরা রহমান (লিনুন)।
  • পল্লী উন্নয়ন – পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
  • সমাজসেবা বা জনসেবা – ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (মরণোত্তর), এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, মো. সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর)।
  • জনপ্রশাসন – কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর)।
  • গবেষণা ও প্রশিক্ষণ – মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া।
  • পরিবেশ সংরক্ষণ – আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের অপেক্ষা

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হবে। এই পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দেয়। বশির আহমেদের মরণোত্তর সম্মাননা তার সংগীত遗产কে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, অন্যদিকে হানিফ সংকেতের মনোনয়ন টেলিভিশন বিনোদন জগতে তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

এই মনোনয়ন বাংলাদেশের সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও উন্নয়ন খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অক্লান্ত পরিশ্রম ও dedication-এর প্রতি একটি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন। পুরস্কারপ্রাপ্তরা তাদের respective ক্ষেত্রে যে অনন্য standard স্থাপন করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।