জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কেন তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকায় আসা ভারতীয় কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারের সঙ্গে দেখা করেও কথা বলেননি বা ছবি তোলেননি। তাঁর মতে, তিনি অভিনয়ের মোহ ও ইলিউশন ভাঙতে চাননি।
১৯৯৫ সালে ঢাকায় দিলীপ কুমার
১৯৯৫ সালে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার। তখন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উন্মাদনা। ‘সুপারস্টার’ হিসেবে পরিচিত দিলীপ কুমারের ঢাকা সফর ঘিরে মানুষের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সফরের একপর্যায়ে তিনি এফডিসি পরিদর্শন করেন, সেখানে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আত্মীয়স্বজন, চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষ এবং অনেক দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় ভিড় জমে যায়। অনেক শিল্পীও তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি।
মোশাররফ করিমের স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব
সেই সময় তরুণ মোশাররফ করিম ছিলেন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য। থিয়েটারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দিলীপ কুমারের সফরের সময় ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নাট্যকেন্দ্রের হয়ে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন মোশাররফ করিম। ফলে দিলীপ কুমারকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি।
ইচ্ছাকৃত দূরত্ব বজায় রাখার কারণ
মোশাররফ করিম বলেন, “বাংলাদেশে একবার দিলীপ কুমার এসেছিলেন, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে আমি আসলে প্রেমের মধ্যে থাকতে চাই। দিলীপ কুমার যে অভিনেতা, তার অভিনয়ের মধ্যে থাকতে চাই। তার যে বাস্তবতা, তার মধ্যে ঢুকে পড়ে আমার ইলিউশনকে নষ্ট করতে চাইনি। মোহকে ভাঙতে চাইনি। তেমনই আমি যদি মোশাররফ করিমের ভক্ত হতাম, তার অভিনয়ের যে মুগ্ধতা, তার মধ্যে থাকতে চাইতাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তখন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য। তরুণ বয়স। ওই সময়ে ওসমানী মিলনায়তনে আমাদের দায়িত্ব পড়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। হঠাৎ দেখি, স্বপ্নের মানুষ দিলীপ কুমার চোখের সামনে। অনেকে সেদিন কাছে গিয়ে ছবি তুলেছেন। আমি দূর থেকে দেখেছি। ছবি তোলা বা কাছে যাওয়া সম্ভব ছিল। তারপরও দূর থেকে, আবার কাছ থেকেও তাকে দেখছি। একদম সামনে যাইনি, ছবি তুলিনি।”



