দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় শৈশবের ঈদের স্মৃতি নিয়ে আবেগঘন কথা বলেছেন। তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে ঈদের আয়োজন আরও বড় ও জমকালো হলেও ছোটবেলার সেই প্রাণবন্ত, আন্তরিক ও আবেগে ভরা আনন্দের সঙ্গে আজকের ঈদের কোনো তুলনাই চলে না।
শৈশবের ঈদের অপেক্ষা
জয়া আহসান বলেন, রোজার ঈদ শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যেত কুরবানির ঈদের অপেক্ষা। ছোটবেলায় ঈদ ছিল বছরের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উৎসব। তিনি হেসে বলেন, 'তখন মনে হতো, প্রতি মাসেই যদি ঈদ হতো!' তার স্মৃতিতে এখনও স্পষ্ট কোরবানির ঈদের আগের দিনগুলোর ছবি। পাড়া-প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের সঙ্গে দল বেঁধে বিভিন্ন বাড়িতে গরু দেখতে যাওয়ার অভ্যাস ছিল তাদের। কোথায় কেমন গরু এসেছে, কোনটার আকার বড়, কোনটার রং আলাদা—এসব নিয়েই চলত শিশুদের উৎসাহ আর উচ্ছ্বাস।
ঈদ মানেই উৎসবের আমেজ
অভিনেত্রীর মতে, সেই সময় ঈদ শুধু নতুন পোশাক বা খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং পুরো পরিবেশজুড়েই থাকত উৎসবের আমেজ। মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ও পারিবারিক বন্ধন ছিল অনেক বেশি। ঈদ মানেই ছিল আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ঘোরা, একসঙ্গে খাওয়া, গল্প আর আনন্দ ভাগাভাগি করা।
বর্তমান ঈদ নিয়ে আক্ষেপ
বর্তমান সময়ের ঈদ উদযাপন নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন জয়া। তার মতে, এখনকার ঈদ অনেকটাই যান্ত্রিক হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যস্ততা আর নগরজীবনের চাপের কারণে আগের সেই আবেগ আর সরল আনন্দ যেন হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। প্রযুক্তি ও ব্যস্ত জীবনের কারণে মানুষ অনেকটাই নিজস্ব গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, 'ঈদের আসল আনন্দটা আসলে ছোটবেলাতেই ছিল।' জয়ার এই কথায় যেন উঠে আসে অনেক মানুষেরই না বলা অনুভূতি—বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের ধরন বদলে গেলেও শৈশবের ঈদের স্মৃতি চিরকালই থেকে যায় হৃদয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল জায়গায়।



