পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল মোমিনা ইকবালের দায়ের করা অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং এবং জীবননাশের হুমকির অভিযোগে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) সাকিব চাডারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)।
অভিযুক্ত এমপিএ ও তার স্ত্রী মামলায় অন্তর্ভুক্ত
অভিযুক্ত সাকিব চাডার ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) একজন আইনপ্রণেতা। এই মামলায় অভিযুক্তের স্ত্রী সামিরা খানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাঞ্জাব এনসিসিআইএ-এর পরিচালক মুহাম্মদ আলী ওয়াসিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে শুরুতে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ না করা হলেও, সম্প্রতি উভয় পক্ষের আইনজীবীদের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং শুনানির পর বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিনেত্রীর আবেদন
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার (২০ মে), যখন অভিনেত্রী মোমিনা ইকবাল তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাকে অনলাইনে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। ইতোপূর্বে এফআইএ এবং এনসিসিআইএ-তে অভিযোগ করেও কোনো ফল না মেলায়, তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও তদন্ত শুরু
অভিনেত্রীর এই আকুল আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় এবং পিএমএল-এন নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। এর পরপরই এনসিসিআইএ-এর পাঞ্জাব প্রধান মুহাম্মদ আলী ওয়াসিম মোমিনা ইকবাল এবং অভিযুক্ত এমপিএ উভয়কেই লাহোর কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক সমন জারি করেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) উভয় পক্ষ নিজ নিজ আইনজীবীসহ তদন্তকারী সংস্থার সামনে উপস্থিত হন।
সম্পর্কের বিবরণ ও হয়রানির কারণ
মোমিনা ইকবালের আইনজীবীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, ২০২২ সাল থেকে ওই আইনপ্রণেতার সঙ্গে অভিনেত্রীর একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং এক পর্যায়ে তিনি মোমিনাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন। তবে পরবর্তীতে উক্ত এমপিএ বিবাহিত জানার পর মোমিনা সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি মোমিনা ইকবালের অন্যত্র বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পর এবং বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হলে হয়রানির মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। এমপিএ সাকিব চাডার অভিনেত্রীর হবু স্বামীকে হুমকি দিতে শুরু করেন এবং তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করান বলে অভিনেত্রীর আইনি দল দাবি করেছে।
ডিজিটাল প্রমাণ হস্তান্তর ও তদন্তের অগ্রগতি
মোমিনা ইকবালের আইনজীবীরা সাইবার বুলিং এবং হুমকির যাবতীয় ডিজিটাল প্রমাণাদি (স্ক্রিনশট এবং কল রেকর্ড) তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছেন। এনসিসিআইএ জানিয়েছে, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মোমিনা ইকবাল।



