শৈশবের ভয়াবহ শারীরীক হেনস্তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘কিছু ঘটনা মানুষ কখনো ভুলে যেতে পারে না—সময় কেবল তাকে চুপ করে বাঁচতে শেখায়।’ তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলেন। যে স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে ফেরে।
ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস
ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রিয়ন্তী উর্বী লিখেছেন, ‘কিছু ঘটনা মানুষ ভুলে যায় না, শুধু চুপ করে বাঁচতে শিখে। আমিও শিখেছিলাম। তাই নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখি, যেন মাথার ভেতরের শব্দগুলো একটু শান্ত হয়। কিন্তু যখনই কোনো শিশুর অ্যাবিউজড কিংবা রেপের খবর দেখি, আমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়ি। কারণ, ছোটবেলায় আমিও ইনঅ্যাপ্রোপিয়েট টাচের (আপত্তিকর স্পর্শ) শিকার হয়েছিলাম।’
সেই ঘটনার বর্ণনা
সে ঘটনা প্রসঙ্গে প্রিয়ন্তী উর্বী আরও লিখেছেন, ‘তখন বুঝতাম না, ঠিক কী হচ্ছে, শুধু মনে হতো, এটা স্বাভাবিক না। আব্বু-আম্মু তো কখনো এভাবে ধরেনি। আজ ভাবি, ৪-৫ বছরের একটা বাচ্চার মনে কতটা ভয় ঢুকে যায় এসব থেকে। কত প্রশ্ন, কত অস্বস্তি, কত-না বলা কান্না জমে থাকে বছরের পর বছর।’
পল্লবীর শিশু হত্যার প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশে সব শ্রেণির মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিচার চাইছেন। এ ঘটনায় অনেক তারকাই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সে ঘটনা নিয়েই নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন এই অভিনেত্রী।
অভিনেত্রীর কঠোর অবস্থান
উর্বী লিখেছেন, ‘আমি আজও বিশ্বাস করি রেপিস্ট আর অ্যাবিউজারদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ, তারা শুধু একটা মানুষকে না, একটা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস আর শৈশবকে মেরে ফেলে। আর একটা জিনিস আমি খুব বিশ্বাস করি, মানুষের কর্মের ফল একদিন না একদিন এই পৃথিবীতেই ফিরে আসে। আল্লাহ সব দেখেন।’
শেষে আবেগঘন মন্তব্য
সবশেষে প্রিয়ন্তী উর্বী লিখেছেন, ‘আজ খুব আব্বুকে মিস করছি। শুটিং, কাজ, ব্যস্ততা সবকিছুর মাঝেও মাঝে মাঝে মনে হয়, কোথাও হারিয়ে যাই, এমন একটা জায়গায় যেখানে কেউ আমাকে চেনে না। হয়তো সেখানে একটু শান্তি পাওয়া যেত।’



