জনপ্রিয় এই অভিনেতা কিশোর বয়সেই অভিনয় শুরু করেন। ছোট মলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁর পথচলা। যাঁর হাত ধরে বলা চলে একটি ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন হয়েছে। একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেতার জন্মদিন আজ। সেই অভিনেতা মোহনলাল সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।
প্রাথমিক জীবন ও অভিনয় শুরু
পুরো নাম মোহনলাল বিশ্বনাথ নায়ার। পরে সিনেমার টাইটেলে শুধু মোহনলাল নামটি জায়গা পায়। কেরালার ইলানথুর গ্রামে ১৯৬০ সালের ২১ মে জন্ম। তাঁর অঞ্চলের মানুষ তাঁকে ডাকেন ‘লালেট্টা’ বলে। সেই লালেট্টা যেন মলিউডের বক্স অফিসে সৌভাগ্যের জাদুকাঠি।
ক্যারিয়ারের উত্থান
তাঁকে খল চরিত্র থেকে শুরু করে অ্যাকশন, কমেডি, রোমান্টিক—সব চরিত্রেই দেখা গেছে। প্রায় ৪৫ বছরের ক্যারিয়ার তাঁর। তাঁকে বলা হয় ‘কমপ্লিট অ্যাক্টর’। ১৮ বছর বয়স থেকে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান ‘তিরানোট্টাম’ সিনেমায়। সেই সিনেমা সেন্সরে আটকে যায়। পরে মুক্তির আশা ছেড়ে দেন তিনি। অবশেষে নির্মাণের ২৫ বছর পর সিনেমাটি মুক্তি পায়। তত দিনে মলিউডে জনপ্রিয়তায় একের পর এক নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিলেন মোহনলাল।
মলিউডের বক্স অফিসের জাদুকর
মলিউডে একসময় কম বাজেটের সিনেমা নির্মাণ করা হতো। সিনেমাগুলো সচরাচর পুরো ভারতে আসত না। যেখানে দুই যুগ আগেও মনে করা হতো যে ৫–১০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমা মানে আকাশছোঁয়া বাজেট। সেই মলিউডে বড় বাজেটের সিনেমা বানিয়ে তাক লাগিয়ে দেন মোহনলাল। সেসব সিনেমা একের পর এক ব্যবসাসফল হয়। প্রথম তিনি রেকর্ড গড়েন ৫ কোটি রুপি আয়ের, পরে ১০ কোটি; এভাবে ২০ থেকে শতকোটি আয় করা সব রেকর্ড তাঁর দখলে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ সম্মানও পেয়েছেন মোহনলাল। ১৯৮৬ সালে মোট ৩৪টি ছবি মুক্তি পেয়েছিল অভিনেতার। তার মধ্যে ২৫টি ছবিই বক্স অফিসে হিট করে। এক বছরে সবচেয়ে বেশি হিট ছবিতে অভিনয় করে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে নজির গড়ে তোলেন মোহনলাল। অমিতাভ বচ্চন, রজনীকান্ত বা শাহরুখ খান—বলিপাড়ার পাশাপাশি দক্ষিণি চিত্রজগতের কোনো অভিনেতাই মোহনলালকে এ বিষয়ে টেক্কা দিতে পারেননি।
বলিউড ও অন্যান্য কাজ
হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা যায় মোহনলালকে। রামগোপাল ভার্মার পরিচালনায় ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কোম্পানি’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘দৃশ্যম’ দেখে মুগ্ধ হননি, এমন দর্শক খুব কমই। একটি সাধারণ পরিবারের হত্যাকাণ্ড লুকানোর থ্রিলিং ছবিটি প্রতি মুহূর্তেই রোমাঞ্চ জাগিয়েছে। এই ছবি দিয়ে দেশের দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন মোহনলাল। তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চর্চা হয়।
ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পত্তি
বর্তমানে দক্ষিণি চলচ্চিত্রজগতের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেতাদের তালিকায় রয়েছে মোহনলালের নাম। চরিত্রের ওপর নির্ভর করে প্রতি ছবিতে পারিশ্রমিক আদায় করেন তিনি। কেরালা ও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তি রয়েছে মোহনলালের। স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে কোচিতে থাকেন তিনি। দুবাইয়েও সম্পত্তি রয়েছে অভিনেতার।



