ভুয়া মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বলিউড অভিনেত্রী অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা
ভুয়া মন্তব্যে ক্ষুব্ধ অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। তবে যখন সেই ভুল তথ্য কোনো শিল্পীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও পেশাগত অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তখন বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সম্প্রতি ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা। একটি ইনস্টাগ্রাম পেজে তাঁর নামে এমন একটি মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় এক সহ-অভিনেতা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সব সীমা অতিক্রম করেছিলেন এবং তখন তিনি বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। কিন্তু অনুপ্রিয়ার দাবি, তিনি কখনোই এমন কোনো মন্তব্য করেননি; বরং এই ভুয়া উদ্ধৃতি তাঁকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে।

‘আমাকে অসহায় নারী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা’

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনুপ্রিয়া বলেন, তিনি এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিতে চান না। কারণ এমন বিষয়কে আর বেশি গুরুত্ব দিতে ইচ্ছুক নন। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ ধরনের মিথ্যা তথ্য একজন নারীর সম্পর্কে অত্যন্ত দুর্বল ও অসম্মানজনক ধারণা তৈরি করে।

অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমি কি এমন মানুষ যে বলব, আমি বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে? আমার নিজের চিন্তাশক্তি আছে। আমি কি এতটাই অসহায় যে কেউ আমার সুযোগ নেবে আর আমি কিছুই বুঝব না?’ অনুপ্রিয়া মনে করেন, ভুয়া উদ্ধৃতিটি তাঁকে এমন এক নারী হিসেবে তুলে ধরেছে, যিনি নিজের পক্ষে কথা বলতে অক্ষম। অথচ বাস্তবে তিনি সব সময় নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুই বছর আগের মন্তব্যের বিকৃতি

অনুপ্রিয়া জানান, প্রায় দুই বছর আগে একটি সাক্ষাৎকারে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। তখনও তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রকাশ করা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেই সাক্ষাৎকারে অনুপ্রিয়া বলেছিলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সহ-অভিনেতা ও পরিচালকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল। শুধু একটি ক্ষেত্রে তিনি অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন এবং তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি জানিয়েছিলেন।

অনুপ্রিয়ার মতে, সেই আলোচনার মূল বিষয় ছিল একজন শিল্পীর নিজের সীমা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে না বলতে পারা। কিন্তু সেই বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যেন কেউ তাঁর সুযোগ নিয়েছে। ‘আমি বরং বলতে চেয়েছিলাম, আপনি যদি কোনো বিষয়ে অস্বস্তি বোধ করেন, তাহলে সেটা পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত। আমাদের সেটে সাধারণত নিরাপদ পরিবেশই ছিল,’ বলেন অনুপ্রিয়া।

বলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের পরিবর্তন

গত এক দশকে বলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেক প্রযোজনায় ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ নিয়োগ করা হয়, যাঁরা অভিনেতা-অভিনেত্রীর সম্মতি, স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। অনুপ্রিয়ার মতে, অধিকাংশ পরিচালক ও সহ-অভিনেতাই এখন এ বিষয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। ফলে কোনো শিল্পী অস্বস্তি বোধ করলে সেটি নিয়ে খোলামেলা কথা বলার পরিবেশও তৈরি হয়েছে।

‘আমি এমন বার্তা কখনো প্রচার করব না’

সবশেষে অভিনেত্রী জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনোই এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না, যা নারীদের দুর্বল বা অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করে। অনুপ্রিয়ার কথায়, ‘আমি এভাবে কথা বলি না, ভবিষ্যতেও বলব না। একজন নারী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানোর ক্ষমতা আমাদের সবার আছে। তাই আমাকে নিয়ে যে গল্প তৈরি করা হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’