নূর ইমরানের নির্মাতা হয়ে ওঠা: 'জ্বীনের বাচ্চা' থেকে নতুন যাত্রা
নূর ইমরানের নির্মাতা হয়ে ওঠা ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প

অভিনেতা থেকে নির্মাতা: নূর ইমরানের গল্প বলার যাত্রা

মোস্তাফিজুর নূর ইমরান দীর্ঘদিন মঞ্চনাটক, সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। অভিনয় করতে করতেই তাঁর মধ্যে গল্প বলার প্রতি এক গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। গত শুক্রবার এক আলাপচারিতায় তিনি এটিকে 'গল্প বলার ঝোঁক' হিসেবে বর্ণনা করেন। এভাবেই অভিনেতা নূর ইমরানের ভেতর ধীরে ধীরে একজন নির্মাতা হিসেবে বিকাশ ঘটতে থাকে।

'জ্বীনের বাচ্চা': প্রথম নির্মাণের অভিজ্ঞতা

নূর ইমরানের হাত ধরে প্রথম নির্মাণ হিসেবে এসেছে 'জ্বীনের বাচ্চা'। তিনি এটিকে পুরোপুরি পরিকল্পিত নির্মাণ বলতে চান না, আবার হুট করেও করা নয়। প্রথম কাজের জন্য তিনি নানা গল্প নিয়ে ভেবেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত 'জ্বীনের বাচ্চা'র কাহিনিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়।

'গল্পটির ভেতরে একধরনের নিঃশব্দ ব্যথা আছে। এটিকে দৃশ্যমান না করলে দায় থেকে যেত। আমি থিয়েটারে গল্প বলতে চেয়েছিলাম, সেটা হয়নি; এখন পর্দায় বললাম,' বলেন নির্মাতা নূর ইমরান। প্রথম কাজ মুক্তির পর তিনি নিজের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পেয়েছেন বলে জানান।

নির্মাণ প্রক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ

দেশের বাস্তবতায় নির্মাতাদেরকে জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত সব কাজ করতে হয়। নূর ইমরান জানান, পরিচালনার চেয়ে প্রডিউসিং কাজটি তাঁর জন্য বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে তিনি বলেন, 'নিজের দর্শনটাকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা—এটা খুব বেশি কঠিন কাজ। তবে আমার টিম খুবই সাহায্য করেছে। দুই–একটা পরিস্থিতি সামলাতে আর সিদ্ধান্ত নিতে একটু দ্বিধা ছাড়া খুব বেশি সমস্যা হয়নি।'

পছন্দের ঘরানা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নির্মাতা হিসেবে সব ধরনের গল্পই বলতে চান নূর ইমরান, তবে তিনি বিশেষভাবে 'জ্বীনের বাচ্চা'র মতো মিথিক্যাল হরর ঘরানাকে বেশি পছন্দ করেন। কারণ, এই ঘরানায় নানা স্তরে গল্প বলা যায়, বিনোদনের মোড়কে সামাজিক ইস্যুতে বার্তা দেওয়া যায় এবং গল্পকে যেকোনো দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

'এই ঘরানায় আমি অনেক কিছুই বলতে পারি আর কী। আবার দিন শেষে একটা রূপকথার গল্প হয়েও সেটা থেকে যায়,' বলেন তিনি। সামনে তিনি কী করতে চান, তা নির্ভর করে তাঁর মুডের ওপর—প্রেমের গল্প, মিথিক্যাল হরর বা পরাবাস্তবধর্মী কিছু। তবে তিনি উদ্ভট ও অপ্রচলিত গল্প বাছতে চান।

অভিনয় ক্যারিয়ার ও চলমান প্রকল্প

ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে আশফাক নিপুন, তানিম নূর ও মেজবাউর রহমান সুমনের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন নূর ইমরান। তিনি জানান, এসব নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করা তাঁর নির্মাতা হিসেবে যাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে। দেশি নির্মাতাদের মধ্যে মেজবাউর রহমান সুমন তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, আর বাইরের নির্মাতাদের মধ্যে কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর কাজ ভালো লাগে।

গত এক থেকে দেড় বছরে 'রঙিলা কিতাব', 'ফেউ' ও 'গুলমোহর' সিরিজে অভিনয় করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দারুণ সময় কাটিয়েছেন তিনি। চলতি বছর তিনি বড় পর্দায় ফিরছেন। মেজবাউর রহমান সুমনের 'রইদ' সিনেমার ট্রেলার ইতিমধ্যে দেশে–বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে এবং রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে।

'আমি নিজে পরাবাস্তব গল্প নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি, 'রইদ'–এ সে ধরনের চরিত্র পেয়েছি। এটিকে কাকতালীয়, সৌভাগ্য—সবই বলব। সিনেমাটি আগে মুক্তি পাক, আরাম করে সব বলব,' বলেন নূর ইমরান।

আগামী দিনের প্রকল্প

এছাড়া তিনি এন রাশেদ চৌধুরীর 'সখী রঙ্গমালা' সিনেমায় কাজ করেছেন, যার শুটিং এখনো শেষ হয়নি। দক্ষিণবঙ্গের পটভূমিতে নির্মিত কৌতূহল পরিচালিত 'দুঃসাহস' সিনেমার সব কাজ শেষ হয়েছে, এবং নির্মাতারা শিগগিরই মুক্তির তারিখ জানাবেন বলে তিনি জানান।

বর্তমানে নূর ইমরান একটি বড় প্রকল্পের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, যা একটি আলোচিত উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘোষণা না আসায় তিনি এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চান না।