নাটোরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ ফরিদের বক্তব্য
নাটোরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বীর মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য

নাটোরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বীর মুক্তিযোদ্ধার জ্বালাময়ী বক্তব্য

নাটোরের ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বন্ধুসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ ফরিদ। শনিবার সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নতুন প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে জোরালো আলোচনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ও প্রজন্মের দায়িত্ব

শেখ মোহাম্মদ ফরিদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যদি না করতাম তাহলে আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে পারতাম না। আমাদের সন্তানদের পিয়ন, চৌকিদারের চাকরি করতে হতো। পশ্চিম পাকিস্তানিরা এসপি, ডিসি হতো। আমরা তাদের তাঁবেদার হয়ে থাকতাম। তাই মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হবে না। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ সৃষ্টির যুদ্ধ, স্বাধীনতার যুদ্ধ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে হয়নি, এর পেছনে দীর্ঘ বঞ্চনা, নির্যাতন ও নিপীড়নের ইতিহাস রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বদলানোর জন্যই আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। যুদ্ধ করার মতো আমাদের হাতে তেমন কিছুই ছিল না। ছিল বুকভরা মনোবল। হাতের কাছে যা পেয়েছি, তা–ই নিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের প্রতিরোধ করেছি। জঙ্গলে, জলে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। শুধু মুড়ি খেয়ে থেকেছি দিনের পর দিন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন প্রজন্মের জন্য আহ্বান

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শেখ মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা, কথাবার্তা বন্ধ করলে চলবে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই আলোচনা অব্যাহত রাখবে। স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করবে। তবেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা শান্তি পাবে, আমরা অমর হয়ে থাকব।’ তিনি প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে মহান মার্চে প্রথম আলো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করে গুরু দায়িত্ব পালন করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানের আয়োজন ও অংশগ্রহণ

‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নাটোর বন্ধুসভার সভাপতি জমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া ফারহানা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:

  • নাটোর বন্ধুসভার উপদেষ্টা অধ্যাপক অলোক কুমার মৈত্র
  • এম কে ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক
  • নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হাসান
  • পাবলিক লাইব্রেরির সহকারী গ্রন্থাগারিক সাজু আহম্মেদ
  • ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন প্রমুখ

অলিম্পিয়াডের ফলাফল

আলোচনা শেষে উপস্থিত ১৪২ জন শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে অংশ নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষে বন্ধুসভার সদস্যদের সহযোগিতায় আমন্ত্রিত অতিথিরা ফলাফল ঘোষণা করেন এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ফলাফল নিম্নরূপ:

  1. প্রথম স্থান: ইমরান খান, তাওহীদ আহম্মেদ, রবিউল ইসলাম, জেসমিন আক্তার (২৮ নম্বর)
  2. দ্বিতীয় স্থান: রুহুল আমিন, ইব্রাহীম আলী, ওহিদুর রহমান, তানবীরুজ্জামান, রাহুল মুখার্জী (২৭ নম্বর)
  3. তৃতীয় স্থান: উম্মে কুলসুম (২৬ নম্বর)
  4. চতুর্থ স্থান: তুষার ইমরান, আমজাদ হোসেন, জাকিয়া সুলতানা, রমজান আলী (২৫ নম্বর)

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।