পর্তুগালে মঞ্চস্থ হচ্ছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জীবনসংগ্রামের নাটক
পর্তুগালে বাংলাদেশি অভিবাসীদের নাটক মঞ্চস্থ

পর্তুগালে মঞ্চস্থ হচ্ছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জীবনসংগ্রামের নাটক

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে একটি বিশেষ নাটক মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশি অভিবাসীদের জীবনযাত্রার কঠিন দিকগুলো তুলে ধরবে। এই নাটকটি ১২ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে, যেখানে আটজন বাংলাদেশি অভিনেতা অংশ নিচ্ছেন। নাটকের গল্পে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিতর্কিত দৃশ্যগুলোকে ফোকাস করা হয়েছে, যা ইউরোপে তাদের জীবনসংগ্রামের একটি বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করবে।

চার ভাষায় পরিবেশিত হবে নাটক

আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, দর্শকদের সুবিধার্থে নাটকটি পর্তুগিজ, ইংরেজি, বাংলা এবং নেপালি—এই চারটি ভাষায় পরিবেশিত হবে। এটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। নাটকটি লিসবনের বেলেমে অবস্থিত সেন্ট্রো কালচারাল দে বেলেম (সিসিবি) মিলনায়তনে মঞ্চায়ন করা হবে, যা একটি প্রসিদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ইউরোপে অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা

এই নাটকে ইউরোপে অভিবাসীদের জীবনসংগ্রাম, বাংলাদেশি অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, তাদের সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা এবং নানা সংকটময় পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। আটজন বাংলাদেশি প্রবাসী ছাড়াও, নাটকে দুজন পর্তুগিজ এবং একজন নেপালি অভিনেতা অংশ নিয়েছেন, যা একটি বৈশ্বিক সহযোগিতার উদাহরণ তৈরি করেছে। নাটকটি নির্মাণ ও নির্দেশনা দিয়েছেন পর্তুগিজ নির্মাতা মার্কো মার্টিনস, যিনি বাংলাদেশি অভিবাসীদের ইউরোপে আসার পেছনের গল্প, তাদের নানা সংকট এবং মানসিক লড়াই নাটকের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

বাংলাদেশি শিল্পীর প্রথম থিয়েটার অভিজ্ঞতা

এই নাটকে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশি মাল্টি-ডিসিপ্লিন শিল্পী নাসরিন সরকার। তিনি বলেন, বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে কাজ করলেও এ ধরনের থিয়েটারে কাজ করা তাঁর জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল। নাসরিন সরকার উল্লেখ করেন, ‘এই কাজ যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল, তেমনি আমার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।’ তাঁর অংশগ্রহণ নাটকটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশি শিল্পীদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপনের একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

চার দিনব্যাপী এই নাট্য–আয়োজন ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতেও অভিবাসীদের জীবনভিত্তিক এমন আরও সাংস্কৃতিক আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশি অভিবাসীদের গল্পগুলোকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের সংগ্রামকে স্বীকৃতি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।