প্যারোলে মুক্তি পেয়েও বোনের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি যুবক
প্যারোলে মুক্তি পেয়েও বোনের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি যুবক

মাদকসেবন মানবজীবন ও সমাজের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ভয়াবহ পরিণতি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সব স্তরেই দেখা যায়। পরিবারে অশান্তি, সম্পর্কের অবনতি এবং সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি পরিবারের আপনজনের মৃত্যুর সময়ও জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান না অনেকে।

রাজবাড়ীতে ঘটনা

তেমনি এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে। মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সিরাজুল শেখ ওরফে পাঠান (৩০) নামে এক যুবককে বড় বোনের লাশ দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি বোনের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি এবং কবরে একমুঠো মাটিও দিতে পারেননি।

পাঠানের পরিচয়

পাঠান গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ার মৃত আকবর শেখের ছেলে। গত ২ এপ্রিল মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে আটক করে দুই মাসের সাজা দিয়ে রাজবাড়ীর কারাগারে পাঠান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বোনের মৃত্যু ও প্যারোলে মুক্তি

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পাঠানের বড়বোন মমতাজ বেগম ওরফে মমো বুধবার (২০ মে) সকালে পৌরসভার এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ার নিজবাড়িতে মারা যান। পাঠানের বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম শেখ কারাগারে বন্দি থাকা ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম পাঠানের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়।

আবেগঘন মুহূর্ত

মুক্তির আদেশ পেয়ে সিরাজুল শেখ ওরফে পাঠানকে নিয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এবাদুল্লা মিস্ত্রীপাড়ায় তার বোন মমতাজ বেগমের বাড়িতে পৌঁছানো হয়। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাকে কিছু সময় রাখার পর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সিরাজুল ইসলাম পাঠানকে নিয়ে রাজবাড়ীর কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বজনদের আফসোস

এ সময় প্রতিবেশী ও স্বজনরা অনেকেই আফসোস করে বলেন, সর্বনাশা মাদকের নেশা পাঠানকে আজ তার বড় বোনের জানাজায় অংশ নেওয়া এবং কবরে একমুঠো মাটি দেওয়ার সুযোগও দিল না। তবে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পুলিশের বক্তব্য

গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা ছিল বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু হাজতি সিরাজুল শেখের বোনের জানাজার সময় ছিল বিকাল সাড়ে ৫টায়। যে কারণে হাজতিকে শুধু লাশ দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।